বাজেটে কি মিলবে বকেয়া ডিএ? নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে থাকতে পারে কোন বড় চমক?

বাজেটে কি মিলবে বকেয়া ডিএ? নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে থাকতে পারে কোন বড় চমক?

West Bengal

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সোমবার পেশ হতে চলা নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা বিস্তর। পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই প্রথম বাজেটকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। বিশেষ করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কোনও ঘোষণা করেন কিনা সেদিকে সকলের নজর। দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা সোমবার জানা যেতে পারে।

অর্থদফতর সূত্রে খবর, এই বাজেটেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মোটা অঙ্কের ডিএ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্যের যা আর্থিক অবস্থা তাতে বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ-ই মেটানো কার্যত অসম্ভব। তবে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার। কারণ, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া না মেটালে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা সম্ভব হবে না।

West Bengal Finance Minister preparing the 2026-27 budget

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের মধ্যে আগের সরকার মাত্র ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা মিটিয়েছে। ফলে বাকি ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার এক সুবিশাল আর্থিক দায় বর্তমান সরকারের কাঁধে চেপেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক মেটানোর জন্য প্রতি মাসের অতিরিক্ত খরচ।

এই পাহাড় প্রমাণ আর্থিক বোঝা সামাল দিতে রাজ্য ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা বিরাট কঠিন কাজ। ফলে বিকল্প পথে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে চাইছে অর্থ দফতর।

সোমবারের বাজেটে অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি। আগের সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিল। তবে নতুন সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই বরাদ্দের পরিমাণ ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় বড় ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে ভুয়ো বা অযোগ্য সুবিধাভোগীদের দ্রুত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।

এছাড়া আগের আমলের ‘বাংলার বাড়ি’, ‘কৃষকবন্ধু’, ‘বাংলা শস্যবিমা’ কিংবা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র বদলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সমগোত্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ফলে রাজ্য কোষাগারের উপর থেকে এই প্রকল্পগুলি চালানোর চাপ কমবে। তাই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ছাড়া রাজ্যের নিজস্ব অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পে এবার বড় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।

রাজ্যের মাথায় থাকা ঋণের বোঝা কমাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। ফলে বাজেটে নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যবাসীর জন্য কী রূপরেখা দেয়, তা সোমবার বিকেলেই জানা যাবে।

Post Comment

You May Have Missed