পেট্রোল নিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! দেশজুড়ে ২,৫৭৩ পাম্পে বিক্রি বন্ধ, আপনার এলাকাও তালিকায়?
নয়া দিল্লি: পেট্রোলের গুণমান নিয়ে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্র। ফুয়েলে জল বা অন্যান্য দূষণ এবং নির্ধারিত মান না মানার অভিযোগের পর দেশের ২,৫৭৩টি রিটেল ফুয়েল আউটলেটে পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও সরকারি তেল সংস্থাগুলির নজরদারিতে চলছে এই বিশেষ কোয়ালিটি-কন্ট্রোল অভিযান।
কোন সংস্থার কত পাম্পে বন্ধ বিক্রি?
দেশের তিনটি বড় সরকারি তেল সংস্থার পাম্প এই অভিযানের আওতায় এসেছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL) — ১,২৫৭টি পাম্প
হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) — ৯১৫টি পাম্প
ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) — ৪০১টি পাম্প
অর্থাৎ তিন সংস্থা মিলিয়ে মোট ২,৫৭৩টি পাম্পে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে।
কেন এত বড় পদক্ষেপ?
সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে E20 পেট্রোলে জল ও ক্লোরাইড দূষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে ফুয়েল সিস্টেমে সমস্যা এবং গাড়ির ইঞ্জিন সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে আসে। এরপরই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও Oil Marketing Companies বা OMC-গুলি দেশজুড়ে ফুয়েল কোয়ালিটি পরীক্ষা আরও জোরদার করে।
পেট্রোল পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কেও নজর
এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পেট্রোল পাম্পের Underground Storage Tank বা ভূগর্ভস্থ তেলের ট্যাঙ্কে জল ঢুকছে কি না, তা পরীক্ষা করা। প্রায় ৮৯ হাজার রিটেল আউটলেটে এই water-ingress testing চালানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী বহু পাম্পে দিনে ৮ থেকে ১২ বার পর্যন্ত ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
৮৫ হাজারের বেশি পাম্পে অটোমেটেড নজরদারি
শুধু ম্যানুয়াল পরীক্ষা নয়, বহু পাম্পে automated monitoring system এবং water-probe ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্যাঙ্কে জল বা অন্য কোনও সমস্যা শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি অভিযানের আওতায় পুরনো পাম্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অডিটও করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ monitoring system থাকলে তা মেরামত বা বদলানোর কাজ চলছে।
শুধু পাম্প নয়, গোটা সাপ্লাই চেনেই পরীক্ষা
ফুয়েল কোয়ালিটি পরীক্ষা শুধু পেট্রোল পাম্পে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। ইথানল বহনকারী ট্যাঙ্কার, স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, ডিপো এবং টার্মিনাল-সহ গোটা ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ইথানল বহনকারী ট্যাঙ্কারে হাজার হাজার sulphur ও chloride test করা হয়েছে। OMC-গুলির storage tank-ও পরীক্ষার আওতায় এসেছে।
গাড়ির ইঞ্জিনে কী সমস্যা হতে পারে?
পেট্রোলে অতিরিক্ত জল বা রাসায়নিক দূষণ থাকলে আধুনিক গাড়ির fuel pump, fuel injector এবং অন্যান্য fuel-system components ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গাড়িতে হঠাৎ ঝাঁকুনি, স্টার্ট নিতে সমস্যা, পারফরম্যান্স কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে মাইলেজ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে ফুয়েলের মানও পরীক্ষা করা দরকার হতে পারে।
২,৫৭৩টি পাম্পে বিক্রি বন্ধ মানেই ওই সব পাম্পে ভেজাল বা বিপজ্জনক পেট্রোল পাওয়া গিয়েছে—এমনটা নয়।
বিভিন্ন ধরনের non-compliance-এর কারণেও কোনও পাম্পে বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এর মধ্যে জল ঢোকার সমস্যা, স্টোরেজ ট্যাঙ্কের ত্রুটি, monitoring equipment কাজ না করা, fuel-quality সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল অনিয়ম থাকতে পারে।
E20 পেট্রোল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই অভিযান
ভারতে E20 অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ethanol-blended petrol ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর সময়েই এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের নিজস্ব পরীক্ষায় নির্দিষ্ট মানের মধ্যে থাকা E20-এর গুণমান ঠিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল উৎপাদন, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং পাম্প পর্যন্ত পৌঁছনোর পুরো প্রক্রিয়ায় ফুয়েলের মান বজায় রাখা।
দেশজুড়ে এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় আগামী দিনে ফুয়েলের মান নিয়ে নজরদারি আরও কড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Post Comment