পিপিএফের ন্যূনতম টাকা জমা দিতে ভুলে গেছেন ? কত জরিমানা, কী ক্ষতি হবে জানেন ?
- পিপিএফ অ্যাকাউন্টে বছরে ন্যূনতম ৫০০ টাকা জমা বাধ্যতামূলক।
- টাকা জমা না দিলে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়, সুদের হারে প্রভাব পড়বে।
- বন্ধ অ্যাকাউন্ট খুলতে জরিমানা ও বকেয়া কিস্তি জমা দিতে হবে।
- নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টে নতুন টাকা জমা দেওয়া বা ঋণ পাওয়া যায় না।
PPF Penalties : আমরা অনেকেই করে থাকি এই ভুল, পরবর্তীকালে যার ফল ভোগ করতে হয় আমাদের। বছরে ন্যূনতম ৫০০ টাকা বিনিয়োগের (Investment) নিয়ম রয়েছে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PPF)। সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষা টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন আপনি। যার পরিবর্তে সরকারি এই স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প (Small Savings Schemes) গ্রাহকদের ৭.১ শতাংশ সুদ (Interest Rates) দেয়। যদি বছরে এই ৫০০ টাকা জমা না করেন, তাহলে কী ক্ষতি হবে আপনার।
আপনার সুদের হারে বড় প্রভাব পড়বে
একজন পিপিএফ গ্রাহক বছরের যেকোনও একটা সময় ন্য়ূনতম ৫০০ টাকা জমা করতে পারেন। কোনও ব্যক্তি মাসে বা বছরে সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা এখানে দিতে পারেন। আপনি পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কে এই টাকা জমার সুযোগ পাবেন। তবে কোনও কারণে এই ৫০০ টাকা জমা করতে না পারলে আপনার পিপিএফ অ্য়াকাউন্ট ইন্যাক্টিভ বা নিষ্ক্রিয় বলে গণ্য় হবে। শুধু তাই নয়, আপনার পুরো জমার ওপর সুদের হারে এই ঘটনা প্রভাব ফেলবে।
কখন বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ
আপনাকে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, কোনও আর্থিক বছরে ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রকল্পে এককালীন টাকা জমা দেওয়া লাভজনক। কারণ, PPF-এর সুদ প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিনের মধ্যবর্তী সময়ের সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়। যদি আর্থিক বছরের শুরুতেই বার্ষিক বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে প্রতি মাসের ৫ তারিখের আগেই মাসিক কিস্তি জমা দেওয়ার মাধ্যমে সুদের আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
টাকা জমা দিতে না পারলে জরিমানা, কী রয়েছে নিয়ম
আপনি কোনও কারণে PPF-এ কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হলে অ্যাকাউন্টের ‘সক্রিয়’ অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আপনি প্রতি বছর যে কিস্তি জমা দেননি, সেই বছরের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা করবে কর্তৃপক্ষ। মনে করে, ওই বছরগুলির জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম জমার পরিমাণ পরিশোধ করতেই হবে। উদাহরণ হিসাবে ধরুন, যদি পরপর আপনি ২ বছর কিস্তি জমা দেওয়া না দেন, তবে ১০০ টাকা জরিমানা ও ১,০০০ টাকা ন্যূনতম জমার পরিমাণ মিলিয়ে মোট ১,১০০ টাকা শোধ করতে হবে। এই টাকা শোধ হলে তবেই অ্যাকাউন্ট পুনরায় সক্রিয় অবস্থায় আসবে।
কী ক্ষতি হবে আপনার
একটা বিষয় মনে রাখবেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও PPF অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে হলে, আপনাকে সেই ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে একটি আবেদন জমা দিতে হবে। জরিমানা সহ প্রয়োজনীয় অর্থ জমা না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় (inactive) হিসাবেই ধরা হবে। তবে, এই ক্ষেত্রেও অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের পরিমাণের ওপর সুদ জমা হতে থাকে। কিন্তু, অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সক্রিয় না করা পর্যন্ত আপনি এতে নতুন করে কোনও টাকা জমা দিতে পারবেন না। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদের ওপর সুদ বা ‘কম্পাউন্ডিং’-এর যে ধারাবাহিক সুবিধা পাওয়া যায়, তা আটকে যেতে পারে। যার অর্থ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের যে লাভ তা আপনি সেভাবে পাবেন না।
আরও কী ক্ষতি
নিয়ম অনুযায়ী ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু না করা হলে, এর ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ বা অ্যাক্সেস সীমিত হয়ে পড়বে। PaisaBazaar-এর তথ্য বলছে, এর ফলে অ্যাকাউন্ট থেকে আংশিক টাকা তোলা বা ঋণের সুবিধা পাবেন না আপনি।
আরও পড়ুন : এবার চেক বাউন্স হলেই জেল ? ২ বছরের হাজতবাস ছাড়াও দ্বিগুণ জরিমানা ! কী বলছে আইন



Post Comment