দীর্ঘ জেরা শেষে অনেক রাতে ইডি অফিস থেকে বেরোলেন অভিষেক
Kolkata
-Ritesh Ghosh
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিন সকাল ১১টায় শুরু হওয়া দীর্ঘ জেরা শেষে রাত ১০টার পর সিজিও কমপ্লেক্সের মূল ফটক দিয়ে বাইরে আসেন তিনি।
সকাল থেকেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সুরক্ষাকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে বারংবার হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে চলা এই গোটা মামলাকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ এবং সরকারের ‘প্রতিহিংসামূলক কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে শাসক দলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ঘর ভাঙানোর চেষ্টার জোরদার অভিযোগ তোলেন দলের যুবরাজ।

অভিষেক বলেন, “আমার গলা কেটে দিলেও আমি আত্মসমর্পণ করার লোক নই। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাথা নোয়ানো যাবে না, আমাদের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই এভাবেই চলবে।”
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার পরিধি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এর আগে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় বারবার উঠে এসেছিল ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থার নাম। ওই সংস্থার মাধ্যমে বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের গতিপ্রকৃতি নিয়েই মূলত সোমবারের জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা। গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার সূত্রগুলো মেলানোর চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। এই নির্দিষ্ট মামলায় বর্তমানে আদালতের কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচ নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। ফলে তাঁর গ্রেফতারি বা কঠোর কোনও পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা ছিল। তবে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার পর অভিষেক বেরিয়ে এসে জানান, তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের প্রতিটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে শেষবার ২০২৩ সালে এই নির্দিষ্ট মামলায় ডাকা হয়েছিল, তখনও আমি কোনো টালবাহনা না করে এসেছিলাম। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত আমি ১০ থেকে ১২ বার কেন্দ্রীয় সংস্থার ডাক পেয়েছি এবং সবসময় আমি তদন্তকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”



Post Comment