তারাপীঠে মা তারার আবির্ভাব তিথি দুই বোনের মিলন ও বিশেষ পুজোর বর্ণিল আয়োজন, ভোগেও রয়েছে অভিনবত্ব!
Last Updated:
Tarapith: তারাপীঠে আজ তারা মায়ের আবির্ভাব উৎসব পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, কড়া নিরাপত্তায় চলছে বিশেষ পুজো
বীরভূম, সৌভিক রায়: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ। তান্ত্রিক দেবী তারা মায়ের মন্দির ও মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রের এই পবিত্র ভূমি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত। প্রতি বছর শুক্লা চতুর্দশীর দিনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় মা তারার আবির্ভাব তিথি।
আজ ৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর), রবিবার এই বিশেষ পবিত্র তিথিতে তারাপীঠে দিনভর চলছে নানা বিশেষ পুজোর আয়োজন। সকাল থেকেই মন্দিরে উপচে পড়েছে পুণ্যার্থীদের ভিড়। চলছে কুমারী পুজোও। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আবির্ভাব তিথির এই বিশেষ দিনে ভোরে মঙ্গল আরতির পর মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে শিব মন্দির থেকে বাইরে বের করা হয়। এরপর মন্দির প্রবেশপথ সংলগ্ন ‘বিরাম মঞ্চে’ পশ্চিম দিকে মুখ করে বসিয়ে মা তারার পুজো শুরু হয়। এই পশ্চিম দিকটি তারাপীঠের অদূরে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া নানকার মৌজার মলুটি গ্রামের মা মৌলিক্ষার (যিনি মা তারার ছোট বোন হিসেবে পরিচিত) মন্দির অভিমুখী। লোককথা অনুযায়ী, বছরের এই বিশেষ দিনে দুই বোন একে অপরের মুখ দেখেন।
প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে ‘নাটোরের খান, আর নানকারের দিকে চান’। অর্থাৎ, সারা বছর মা তারা নাটোরের রানির তৈরি মন্দিরে বসে ভক্তদের ভোগ গ্রহণ করলেও, বছরের এই একটি দিন তিনি নানকার রাজপাটে অবস্থিত ছোট বোন মা মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আবির্ভাব তিথির এই দিনটিতে মা তারার কোনও প্রচলিত অন্নভোগ হয় না। এমনকি রীতি অনুযায়ী তাঁর ছোট বোন মা মৌলিক্ষার মন্দিরেও এদিন অন্নভোগ হয় না।
ভোরে মঙ্গল আরতির পর লুচি, মিষ্টি ও ফল দিয়ে দেবীকে শীতল ভোগ নিবেদন করা হয়। সারাদিন মা কেবল ফল ও মিষ্টিই গ্রহণ করেন। দিনভর উপবাসের পর রাতে হয় মায়ের আসল মহাভোগ।
এই সময়ে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচ রকমের ভাজা, মাছ ও মাংস নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় মায়ের বিশেষ সন্ধ্যা আরতি সম্পন্ন হবে। এরপর মা তারাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সদ্য পুনর্নির্মিত গর্ভগৃহে। সেখানে তাঁকে দেবী লক্ষ্মীরূপে পুজো করার মধ্য দিয়ে এই পবিত্র আবির্ভাব তিথির দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
Post Comment