এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপার স্বামী সাকির আলি
West Bengal
-Ritesh Ghosh
শ্রীরামপুর ও রিষড়ায় রামনবমীর অশান্তির ঘটনার তদন্তে এবার অত্যন্ত বড়সড় পদক্ষেপ করল এনআইএ। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর গ্রেফতার করা হল রিষড়া পুরসভার অন্যতম প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে। তিনি আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী হিসেবেও হুগলির জেলা রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ দল রিষড়ায় সাকির আলির বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এদিন মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকা পেরিয়ে রিষড়ায় সাকির আলির বাসভবনে পৌঁছয়। তাঁদের সাথে ছিল কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের একটি বড় দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জওয়ানরা তৎক্ষণাৎ পুরো আবাসনটি এবং সংলগ্ন রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এরপর তদন্তকারীরা ভিতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ঢোকা-বেরনো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে রিষড়ায় ভয়াবহ গোলমাল বেঁধেছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে একাধিক দোকানপাটে আগুন ধরানো হয় এবং পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে সংলগ্ন রেলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। হুগলি জেলার শ্রীরামপুর ও সংলগ্ন এলাকায় শান্তি ফেরাতে বড় পুলিশ বাহিনী নামাতে হয়েছিল। সেই হিংসার সাথে যুক্ত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে কলকাতা হাইকোর্ট এনআইএ-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
সাকির আলির মতো একজন প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের দাবি, এই গ্রেফতারির পুরোটাই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসা পরায়ণতা। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজভবন ও এজেন্সি ব্যবহার করে বাংলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাকির আলির মতো জনপ্রতিনিধিদের বেছে বেছে নিশানা করে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ঘটনার দিন থেকেই সাকির আলির মদতপুষ্ট সমাজবিরোধীরা এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করেছিল ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিল। অবশেষে যারা হিংসার সাথে যুক্ত ছিল, তারা সঠিক শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে।
এনআইএ সূত্রে খবর, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সাকির আলিকে প্রধান সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। এর আগে গ্রেফতার হওয়া বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার নাম সামনে উঠে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন সাকির আলির মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনের সাথে তাঁর কল রেকর্ডস খতিয়ে দেখেই বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে, যা সরাসরি এই হিংসার ঘটনার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।
এদিন সাকির আলির বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে সাকির আলি তদন্তকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দেওয়া উত্তরে অসঙ্গতি থাকা এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তাঁকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।



Post Comment