আশির কোঠাতেও চমক! ‘কলমযোদ্ধা’ বেলদার যোগেন ডাক্তার, চিকিৎসা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন

Last Updated:

Doctor: পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার প্রবীণ অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ যোগেন্দ্রনাথ বেরা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আশি বছর বয়সেও তিনি রোগীদের সেবা করার পাশাপাশি নিয়মিত সাহিত্য সৃষ্টি করে চলেছেন।

+

News18

বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর , রঞ্জন চন্দ: এক হাতে স্টেথোস্কোপ আর অন্য হাতে ঝর্না কলম— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে জীবনের আট দশক পার করে ফেলেছেন তিনি। ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়াই তাঁর মূল পেশা, কিন্তু নেশা সাহিত্যের গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়া। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার পরিচিত অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ যোগেন্দ্রনাথ বেরা কেবল একজন চিকিৎসক নন, তাঁর কলমের ডগায় রাত জেগে জন্ম নেয় একের পর এক আস্ত উপন্যাসের চরিত্র। বয়সের ভারে ত্বকে বলিরেখা স্পষ্ট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর সাহিত্যচর্চার সতেজতায় আজও এতটুকু মরচে ধরেনি।

চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় তিনি পরিচিত ‘যোগেন ডাক্তার’ নামে। সরকারি হাসপাতালের কর্মজীবন শেষ করার পর ব্যক্তিগত চেম্বারে বছরের পর বছর ধরে নিরলস পরিষেবা দিয়ে চলেছেন তিনি। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের কাছে তিনি কার্যত ‘ভগবান’। নামমাত্র ফি কিংবা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়াই তাঁর আজীবনের স্বভাব। সকাল থেকে চেম্বারে উপচে পড়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়। সারাদিনের ক্লান্তি আর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তাঁকে বিশ্রাম নিতে দেখা যায় না; রোগ নির্ণয়ের টেবিল থেকেই তিনি পা বাড়ান তাঁর একান্ত সাহিত্যলোকে।

প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করার সুবাদে বইয়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব বহু পুরোনো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্যের নান্দনিক জগৎই তাঁর আসল অবসর। রোগী দেখার ফাঁকে টেবিলের এক কোণে রাখা ডায়েরিতে আঁচড় কাটেন তিনি, আর রাত গভীর হলে শুরু হয় মূল সৃষ্টিপর্ব। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে বহু মানুষের রক্তের গ্রুপ সংকলিত তাঁর সাড়াজাগানো বই ‘রক্ত দর্পণ’। এ ছাড়া ছোটগল্প, গান, সচেতনতামূলক রচনা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য— সবই সাবলীল দক্ষতায় উঠে এসেছে তাঁর কলমে। বেশ কিছু বই ইতিমধ্যে পাঠকের সমাদর পেয়েছে, আরও কয়েকটি এখন প্রকাশের অপেক্ষায়।

আশি পেরোনো এই প্রবীণ মানুষটির ক্লান্তিহীন দিনযাপন আজকের প্রজন্মকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত যোগেনবাবু সময়ের অপচয় করতে ঘোর বিরোধী। চিকিৎসাসেবা আর সৃজনশীলতার এই বিরল যুগলবন্দি দেখে বেলদাবাসী তো বটেই, সমাজের সর্বস্তরের মানুষই কুর্নিশ জানাচ্ছেন তাঁকে। সাদা অ্যাপ্রনের ভেতরে লুকোনো এক সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মনের এমন অনন্য দৃষ্টান্ত সত্যিই বড় দুর্লভ।

Post Comment

You May Have Missed