‘অবতরণের মুহূর্তেই ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে’, ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরতে প্রস্তুত হাসিনা

নয়াদিল্লি : নিজের দেশে ফিরতে তিনি প্রস্তুত। সোমবার একথা জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাসিনা স্মরণ করেন যে, অতীতে নিজের দেশে তিনি কীভাবে টার্গেট হয়েছিলেন, কিন্তু তবুও অবিচল থেকেছেন। “এখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি… হ্যাঁ, আমি জানি। আমি যদি ফিরে যাই, তবে অবতরণের মুহূর্তেই ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, অথবা আমাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করতে পারে।” ওয়াশিংটন-ভিত্তিক একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন হাসিনা।” ডিসেম্বরের মধ্যে নিজে থেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পর তিনি এই মন্তব্য করলেন। তবে, সাম্প্রতিক এই কথোপকথনে তিনি দেশে ফেরার কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের তারেক রহমান-নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেন এবং হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর হত্যাকাণ্ড ও আওয়ামী লিগ নেতাদের কারাবন্দি করার তীব্র নিন্দা জানান।

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লিগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের অগাস্ট মাস থেকে ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় তিনি তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আমি আমার দেশ ছেড়ে আসার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু কোনওভাবে আমি এখানে এসে পৌঁছেছি। আমি ভারত সরকার ও এখানকার মানুষদের ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ৬০০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে যারা এসব অপরাধের পেছনে ছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দায়মুক্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার দুই বছর পর, চলতি বছরের অগাস্ট মাসে দিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-র আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি বলেন যে, ২০২৪ সালে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলেও, তিনি কখনোই তাঁর জনগণের কাছ থেকে “বিচ্ছিন্ন হননি”। কথোপকথনের সময় হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন যে, “সময় হলে” তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

সেপ্টেম্বরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বলেছি যে ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসার ইচ্ছা আমার আছে, কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যায় না। আমি যথাসময়ে ফিরে আসার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং প্রবেশের স্থান জানিয়ে দেব।”

Post Comment

You May Have Missed