Suvendu Adhikari: ‘ডিউটি ছেড়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছে নেতার মতো..,’ মেডিক্যাল কলেজে ওই দিন কারা ছিলেন? এবার রিপোর্ট তলব শুভেন্দু অধিকারীর
Last Updated:
Suvendu Adhikari: চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় নতুন মোড়! ‘ডিউটি ছেড়ে নেতার মতো স্টেটমেন্ট দিয়েছেন’, জুনিয়র ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শুভেন্দু অধিকারীর। ঘটনার দিন মেডিক্যাল কলেজে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা জানতে রিপোর্ট তলব করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা: গতকাল সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর পাশেই ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়৷ এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে একাধারে মুখ্যমন্ত্রী যেমন চোরবাগানের ঘটনার পরে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, তৎপরতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন, তেমনই সরকারি হাসপাতাল থেকে যে চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের সামনে বিবৃতি দিয়েছিলেন তাঁদের নিয়েও কথা বলেন৷
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘চোরবাগানের ঘটনার পরে বহু ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী এগিয়ে এসেছেন ছুটি বাদ দিয়ে৷ তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে৷ তাঁদের আমি কৃতজ্ঞকতা জানাব৷ তাঁরা বড় পুজোগুলোকে হেল্প করছেন৷ এছাড়াও, আপনারা দেখছেন জেলা স্টেট হাসপাতালে এমার্জেন্সি, ট্রমা কেয়ার অ্যাকটিভ রয়েছে৷ অনেক সময় পুজোর এই সময়টা অনেক ডাক্তার থাকেন না বলে অভিযোগ হয়৷ আমরা আগেও দেখেছি৷ এসএসকেএম ট্রমা কেয়ার সেন্টারে একটু চাপ রয়েছে৷’’
চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার দিন আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ সেখানে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরেই একে একে তাঁদের বেসরকারি হাসপাতালে ট্রান্সফার করানো হয়৷ এবিষয়ে শুরু হয় চর্চা৷
এরপরেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ওই দিনের জুনিয়র ডাক্তারদের সাংবাদিকদের সামনে বিবৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু৷ যদিও নিজের বক্তব্যে কোথাও জুনিয়র ডাক্তার শব্দবন্ধ উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মেডিক্যাল কলেজের যাঁরা আপনাদের কাছে ডিউটি ছেড়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছে নেতার মতো৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য সচিবকে বলেছি, ছবিগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করে বের করতে, ওদের ওই সময় ডিউটি ছিল কি না৷ রিপোর্ট সিএমও-তে দিতে হবে৷ যদি ডিউটি চলাকালীন বেরিয়ে এসে স্টেটমেন্ট দিয়ে থাকে, তাহলে প্রতিহিংসা নয়, এটা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী৷ এটা এমার্জেন্সি সার্ভিস, একটা মানবিকতা দায়বদ্ধতা রয়েছে৷ আমি বিতর্কে যেতে চাই না৷ যে সার্ভিস কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ দিতে পারবে, তার থেকে বেটার সার্ভিস (বেসরকারি হাসপাতাল) দিতে পারবে বলে আমরা সর্বোত্তম ব্যবস্থা নিয়েছি৷’’
চোরবাগানে বিপর্যয়ের পর আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে। সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা শনিবার রাতেই অভিযোগ করেছিলেন, জখম ব্যক্তিদের অনেককেই কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি করানোর পরে, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁদের দাবি ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক জল্পনা।
এক জুনিয়র চিকিৎসকের দাবি ছিল, ‘‘ভর্তি হওয়ার যে কাগজপত্র সরকারি হাসপাতালে সেগুলো তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমাদের কাছে নির্দেশ এল একেবারে উপরমহল থেকে অর্থাৎ স্বাস্থ্যভবন হয়ে MSVP হয়ে, বিভাগীয় প্রধানদের তরফ থেকে আমাদের কাছে যে নির্দেশ এল যে রোগীর আত্মীয়দের কাছে একটা অপশন রাখা হোক.. প্রাইভেট যে হাসপাতাল সংস্থা সেখানে করাতে চায় কিনা? তাঁকে আমরা নিজেদের চোখে দেখি তিনি একাধিক রোগী পরিজনকে বলছেন যে কারা কারা আপনাদের রোগীদের (ওই বেসরকারি হাসপাতালে) চিকিৎসা করাতে চান। এই ধরনের কথা একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন। তখন রোগীদের ভিড় ছিল এমার্জেন্সিতে।’’

Post Comment