এবার ২১ জুলাই সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী ? ফেসবুক লাইভে মমতা বললেন…
কলকাতা : এবার ২১ জুলাই সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী ? কীভাবে কোথায় হবে ? তা নিয়ে চর্চা চলছে। কারণ, এই কর্মসূচি নিয়েও সম্প্রতি ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র মধ্যে টানাপোড়েন দেখা গেছে। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, ২ জুলাই থেকে ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একাংশে BNS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আবহে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে দল কী করবে তা ফেসবুক লাইভে জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বললেন, “২১ জুলাই হবে শহিদ স্মরণে। আমরা অনুমতি চেয়েছি। কোনও অনুষ্ঠানেই আমাদের পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। ক্যান ইউ ইমাজিন, পুলিশ কখনো বলতে পারে যে অগাস্ট পর্যন্ত কলকাতায় কোনও ব়্যালির অনুমতি দেওয়া হবে না ? সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্থ। আরে এ আবার কী কথা ! পুরো গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ ? গায়ের জোরে ব্ল্যাঙ্ক অর্ডার। এখানে কোনও ১৪৪ নেই। এখানে কোনও সাম্প্রদায়িক অশান্তি নেই। তো কেন করছেন এসব ? শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের অনুষ্ঠানকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য। শুনুন, রিকশয় দাঁড়িয়ে প্রোগ্রাম হলেও প্রোগ্রাম আমাদের হবে। আপনারা ট্রেনে আসতে দেবেন না, বাসে আসতে দেবেন না, বেরোতে দেবেন না। আমি সব কারসাজি জানি। কিন্তু একটা জিনিস জেনে রাখুন, হৃদয় যখন নাড়া দেয় কোনও বাধাই কোনও বাধা মানে না। দেখবেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাতেই ২১ জুলাই হবে। বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও। সন্ত্রাসের বাঁধ ভাঙো। শহিদ স্মরণে এসো। কোনখানে আসবেন সেটা আমরা পুলিশকে অনুমতি চেয়েছি, অনুমতি পেয়ে গেলে জায়গাটা জানিয়ে দেব।”
২১ জুলাই। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর, সেই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। যদিও, এবার ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এই অবস্থায়, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভাস্থল পরিদর্শন করেন কালীঘাট-তৃণমূলের সদস্যরা। ফিতে হাতে রাস্তা মাপজোক করেন তাঁরা।
এনিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “২০১১ সালে তো ব্রিগেডে গেছিলেন। এবারেও চলুন না ব্রিগে়ডে যাই। দম আছে ? আপনি অ্য়াপ্লিকেশন করে দিয়ে কলকাতার রাস্তায় ভিক্টোরিয়ার সামনে ফিতে নিয়ে চলে যাবেন? মামারবাড়ি নাকি? ফিতে নিয়ে যাবেন মাপতে? কে অধিকার দিয়েছে আপনাকে? অনুমতির জন্য় আবেদন করবেন, কোথায় দেব বলে দেব।”
এসবের মধ্যেই কুণাল ঘোষদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। নোটিস পাঠায় পুলিশ। সেইমতো হেয়ার স্ট্রিট থানায় হাজিরা দেন কুণাল ঘোষ।
ইতিমধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, ২ জুলাই থেকে ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একাংশে BNS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বউবাজার, হেয়ার স্ট্রিট এবং ট্রাফিক গার্ড সদর দফতরের অধীনে কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত এলাকায় ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকবে।
Samik Bhattacharya News: ‘তৃণমূল হয়ে গিয়েছিল লুটেরাদের দল, নীতি ছিল দুর্নীতি’, কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যর



Post Comment