Plastic Currency: আপনার পকেটে থাকা নোট কি প্রায়ই ছিঁড়ে যায়? আর চিন্তা নেই, এবার বাজারে আসতে পারে নতুন নোট !
সম্প্রতি RBI বোর্ডের বৈঠকগুলিতে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালেও পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এখন প্রযুক্তির উন্নতি এবং ATM মেশিন আপডেট হওয়ার ফলে RBI আবারও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফের শুরু হচ্ছে পলিমার নোটের পরিকল্পনা
প্রায় ১০ বছর পুরনো পলিমার নোট প্রকল্পকে আবারও শুরু করছে RBI। ২০১২ সালে সরকার ১০ টাকার পলিমার নোটের ট্রায়াল পাঁচটি শহরে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সেই সময় প্রযুক্তিগত ও মেশিন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
এখন RBI-র দাবি, সেই প্রযুক্তিগত সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। নতুন ATM এবং ক্যাশ মেশিন সহজেই পলিমার নোট শনাক্ত করতে পারবে। পাটনা ও মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত RBI বোর্ডের বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, পলিমার নোট দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য হবে এবং নোংরা বা ছেঁড়া নোটের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত বাড়লেও নগদের চাহিদাও সমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে Circulation-এ থাকা মোট মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১.৫ শতাংশ বেশি।
নোট ছাপানোর খরচও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নোট ছাপাতে প্রায় ৬,৩৭২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি নোংরা ও ক্ষতিগ্রস্ত নোটের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট ফেরত নেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে ₹৫০০ এবং ₹১০০-এর নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
RBI-র মতে, পলিমার নোট চালু হলে নোটের আয়ু বাড়বে এবং বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমবে। এর ফলে সরকারের খরচও কমতে পারে।
দেশে ১০ ও ২০ টাকার মতো ছোট নোটের চাহিদা সবসময়ই থাকে, কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। মোট চলতি মুদ্রার মধ্যে ১০ টাকার নোটের অংশ মাত্র ০.৭ শতাংশ। RBI কয়েন ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষ ছোট কয়েন তেমন ব্যবহার করেননি।
২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১৫০ কোটি কয়েন জারি করা হলেও ছোট নোটের চাহিদা এখনও রয়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে, পলিমার নোট এলে ছোট মূল্যমানের নোট বেশি দিন টিকবে এবং সহজে পাওয়া যাবে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে পলিমার নোট ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ১৯৮৮ সালে পলিমার নোট চালু করে। পরে সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে।
এই নোটগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এগুলি জল বা ময়লায় সহজে নষ্ট হয় না। পাশাপাশি এতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় জাল নোট রুখতেও সাহায্য করে। RBI-র পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে আগামী দিনে গোটা দেশেই পলিমার নোট চালু হতে পারে।



Post Comment