Mamata TMC: পুরভোটে বামেদের সঙ্গে জোট? সৌগত মনে করালেন ইতিহাস, কুণাল বলছেন সময়ের দাবি, মমতা তৃণমূলেই ভিন্ন মত
বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়, দল ভেঙে টুকুরো টুকরো হওয়া, প্রতীক বদলের জেরে এমনিতেই মনোবল ভেঙে গিয়েছে দলের কর্মীদের৷ এই পরিস্থিতিতে পুরভোটে কোনওভাবে বামেদের সঙ্গে জোট হলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও মমতা তৃণমূলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে৷ পুর ভোটের আবহে মমতা তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের জোট জল্পনা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষও।
কলকাতা পুরভোটে বিরোধীদের জোট নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। বিশেষত কংগ্রেস-মমতা বন্দোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে জোট হবে কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত জল্পনা।
দূর্গা পুজোর আবহে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সাথে বৈঠক সেরেছেন কুণাল ঘোষ। আবার বামেদের স্টলে গিয়ে হাজির হয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।
বইয়ের স্টল ভাঙার বিরোধিতা করে প্রতিদিন পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল।
এমন কি, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের পাশে থাকার কথাও শোনা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে।শিলিগুড়িতেও পুরভোটে কংগ্রেসের পাশাপাশি বামেদেরও জোট গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা তৃণমূলের নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব৷ এই আবহের মধ্যেও বামেদের সঙ্গে জোট প্রশ্নে আপত্তি আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্দরেই।
মমতা শিবিরের প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ সৌগত রায় দাবি করছেন, সিপিআইএম-এর সঙ্গে জোট করার অবস্থা এখনও হয়নি। ইন্ডি জোটে এক সঙ্গে থাকা আর রাজ্যে পুর ভোটে পাশে নিয়ে লড়াই করার মধ্যে ফারাক আছে বলেই দাবি করেছেন দমদমের সাংসদ৷
সৌগত রায়ের আরও যুক্তি, ইতিহাসকে অস্বীকার করার উপায় নেই৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক উত্থানই বামেদের সঙ্গে লড়াই করে৷ মমতা নিজে বামেদের বিরুদ্ধেই বরাবর লড়াই করে এসেছেন। তাই বামেদের সঙ্গে জোট কর্মীরাও মেনে নেবে না।
সৌগত রায়ের এই যুক্তি অবশ্য মানতে রাজি নন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। প্রসঙ্গত, শিলিগুড়িতেও গৌতম দেব কুণালের সুরে সুর মিলিয়েছেন। কুণাল ঘোষের যুক্তি, ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তত্ত্ব কথা মেনে চলার পরিস্থিতি নেই৷ এখন মূল লক্ষ্য গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। কারও ব্যক্তিগত সমস্যা না দেখে এক সঙ্গে লড়তে হবে।’
কংগ্রেস নেত্রী হিসাবে হোক অথবা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করার পরবর্তী সময়। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসা থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই চড়া সুরে বামেদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন৷ রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় জুড়েই সিপিআইএম তথা বামেদের মূল রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি৷ তাঁর দেখানো পথেই হেঁটেছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা।
ক্ষমতা হারানোর ছয় মাসের মধ্যেই সেই বামেদের প্রতি মমতা তৃণমূলের অবস্থান কী হতে চলেছে. তা নিয়ে ভিন্ন সুর কালিঘাটের নেতাদের। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর বামেদের প্রতি অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, তাঁরা বিষয়টি কীভাবে নেবেন, তা নিয়েই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা৷ এমনিতেই ভেঙে খান খান হয়ে হয়ে গিয়েছে দল৷ বামেদের প্রতি সমর্থন বা জোট হলে দলে বিদ্রোহীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ৷
বামেদের সঙ্গে জোট প্রশ্নে মমতা শিবিরের নেতাদের ভিন্নমতকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।
বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক সজল ঘোষের মন্তব্য, ‘বামেদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট হলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা কতটা আঘাত পাবেন ভাবুন তো।’
Post Comment