Dhan Teras 2026: সোনার দাম ১.৩০ লক্ষ ছাড়িয়েছে! কিন্তু ধনতেরাসে মুর্শিদাবাদের এই দোকানে হুড়মুড়িয়ে কী কিনছেন সবাই! দেখুন…
Last Updated:
Dhan Teras 2026: সোনার বাজার দর ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় এই ধনতেরাসে মধ্যবিত্তের ভরসা হয়ে উঠেছে রুপো এবং মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতল। উৎসবের আবহকে আরও জমজমাট করতে দোকানগুলিতে দেবদেবীর মূর্তির উপর আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: সোনার বাজার দর এখন আকাশছোঁয়া। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম ছাড়িয়ে গেছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার গণ্ডি, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজেটের বাইরে চলে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ে আসছে ধনতেরাস, আর সেই শুভ উপলক্ষে ধাতু কেনার ঐতিহ্য বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে রুপো এবং মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের সামগ্রী। বহু প্রাচীনকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের খাগড়ার কাঁসা ও পিতলশিল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, আর এই বছর ধনতেরাসের আবহকে কেন্দ্র করে সেই বাজার আবার পুরোদমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের শুভ দিনে ঘরে নির্দিষ্ট কিছু ধাতু আনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে তামা, পিতল এবং কস্টুক জাতীয় ধাতুতে স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী এবং ধনকুবেরের বাস রয়েছে বলে সাধারণ ক্রেতারা এই ধরনের বাসন ও গৃহস্থালী সামগ্রী কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি শুভ ফল পেতে রুপোর জিনিসপত্র কেনাকাটায় বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাজারে বর্তমানে কাঁসার জিনিসপত্র প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকার কাছাকাছি এবং পিতলের বিভিন্ন সামগ্রী মিলছে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে।
তবে কেবল সাধারণ বাসনপত্রই নয়, এই মরশুমে চরম চাহিদা দেখা দিয়েছে পিতলের নিখুঁত ও নান্দনিক দেবদেবীর মূর্তির। কান্দি শহরের সুপরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ গোপাল সাহা জানিয়েছেন, বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের মূর্তি রাখা হয়েছে। লক্ষ্মী মূর্তি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়, ধনলক্ষ্মী মিলছে ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকার মধ্যে, ধনকুবেরের মূর্তি বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায়, এবং শ্রীগণেশের মূর্তি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মাপে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বালোগোপাল বা লালী গোপালের মূর্তির দাম ২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত থাকলেও, এবছর লালী গোপালের মূর্তি কেনার প্রতিই ভক্ত ও ক্রেতাদের আকর্ষণ সবথেকে বেশি নজর কাড়ছে।
ক্রেতাদের কেনাকাটার আনন্দকে দ্বিগুণ করতে এবং আরও বেশি মানুষকে এই ঐতিহ্যবাহী ধাতুর প্রতি আকৃষ্ট করতে বিশেষ ছাড়ের বন্দোবস্ত করেছে দোকানগুলি। মূর্তির দামে রয়েছে ১৫ শতাংশ ছাড় এবং অন্যান্য সামগ্রীতে দেওয়া হচ্ছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট। ধনতেরাসের আগে এই ব্যাপক চাহিদা সামাল দিতে দিনরাত এক করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা, ফলে কর্মমুখর হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের কাঁসা-পিতলের কারখানাগুলি।
Post Comment