কলকাতায় অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে ‘পাওয়ার লাঞ্চ’-এ স্বপন দাশগুপ্ত ও তাপস রায়, রাজ্যকে ‘পাওয়ারফুল’ করার রোডম্যাপ?
Last Updated:
বাজেটে রাজ্যের শিল্পায়নের বিষয়ের উপর বেশ জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তোলাবাজি মুক্ত করতে নয়া আইন, শহরাঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের উর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত আইন সংশোধন এবং দ্রুত ব্যবসার ছাড়পত্র দিতে এক জানালা পদ্ধতিতে ছাড়পত্র-সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর বাংলায় শিল্পের স্বপ্ন। বদলের বাংলায় শিল্পে নতুন জোয়ার। তৃণমূলের জমানায় নিয়ম করে বছর বছর বাণিজ্য সম্মেলন হয়েছে। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট। সেখান থেকে ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি এসেছে। কিন্তু রাজ্যে ভারী শিল্প আসেনি। উল্টে একের পর এক কারখানার ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের জমি নীতি ৷ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ থেকে এবার মুক্তি ৷ বঙ্গে কাটছে শিল্পের খরা ৷ প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের রবিবাসরীয় মধ্যহ্নভোজনের ছবিটি যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে ৷ এদিন দক্ষিণ কলকাতার একটি রেস্তোরাঁয় ‘পাওয়ার লাঞ্চ’ সেরে নেন তাঁরা ৷ রাজ্যকে আরও ‘পাওয়ারফুল’ করার রোডম্যাপও কি তৈরি হয়ে গেল?
দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া। আর সেই হাওয়ায় ভর করেই বাংলায় ডানা মেলছে নতুন নতুন শিল্পের স্বপ্ন। বাংলায় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে বার্জার পেইন্টস ও পিয়ারলেস গোষ্ঠী। ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে বার্জার পেইন্টস ৷ এবং ১০০০ কোটিরও বেশি লগ্নির প্রস্তাব পিয়ারলেস গোষ্ঠীর ৷
তৃণমূল জমানায় শিল্পের খরা দেখেছে রাজ্য। বড় শিল্প নেই। চাকরিও ছিল না। যে টুকু বিনিয়োগ এসেছে, তারও পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তোলাবাজি, হুমকি। বাংলার এই শিল্প-ছবির বদল চায় রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের কথায়, ‘‘হস্তক্ষেপ ও চাঁদাবাজি ব্যবসাকে ক্ষতি করছে। এই কারণে সামনের দিনে আমরা একটি আইন আনছি। আমাদের সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবসাকে সিন্ডিকেট চার্জ এবং অন্যান্য অর্থ আদায় করার আইন আনব ৷’’

আমূল, রশ্মি গ্রুপের পর এবার বাংলায় ১ হাজার ৬০০ কোটির বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে বার্জার পেইন্টস ও পিয়ারলেস গোষ্ঠী। তৃণমূল জমানার অন্ধকার কেটে গিয়ে এখন শিল্পমহলেও ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। দেশে সবথেকে বেশি দুধ উৎপাদন করে আমূল। বিশ্বের সবথেকে বড় দুধ সমবায় হল আমূল। এই সংস্থাই এবার বিনিয়োগ করছে পশ্চিমবঙ্গে। সাড়ে ছ’শো কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে বাংলায় আসছে তারা।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‘আমুল ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এমন শ’য়ে শ’য়ে কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। যাতে বাংলার ছেলেমেয়েরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারে। সরকারি চাকরির বাইরে যদি শিল্পে কর্মসংস্থান না হয়, তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না কোনও রাজ্য। ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প হয়নি ৷’’
শিল্প না আসায় ক্রমশ পিছিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ৷ কর্মসংস্থান না হওয়ায় রাজ্য ছেড়েছে যুবসমাজের একাংশ ৷ ফলে যে পশ্চিমবঙ্গ এক সময়ে জিডিপিতে দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিল। এখন তা তলানিতে। ঘরে কাজ নেই। পেটে ভাত নেই। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে হয়েছে পালাবদল। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শিল্পের হাল ফেরার আশায় রাজ্যবাসী। রাজ্যবাসীর আশাপূরণে তৎপর বিজেপিও।
Kolkata,West Bengal




Post Comment