শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করার ডাক বিধায়কের, পটাশপুরে কলেজেও যোগ দিবস উদযাপন
Last Updated:
রবিবার প্রথমবার বাংলায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়৷ কলকাতার রেড রোডেপ মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷
পঙ্কজ দাশরথী, পটাশপুর: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পটাশপুর যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাক্তনী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও গুণী কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রক্তদাতা ও কৃতিদের হাতে স্মারক সম্মান তুলে দেন বিধায়ক তপন মাইতি এবং অধ্যক্ষ প্রদীপ্ত কুমার মিশ্র।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিধায়ক বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও মানসিক বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত ও বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার তীর্থভূমি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি কলেজের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এই মহৎ উদ্যোগে প্রাক্তনীদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও কলেজের ভবিষ্যৎ ভাবনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষক রূপে দেখা যায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে৷ অংশগ্রহণকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক ভাবে যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে৷
শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই রবিবার রীতিমতো উৎসবের মেজাজে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়৷ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসন, যোগ দিবসকে সফল করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন প্রত্যেকেই৷ বহু স্কুল, কলেজের পড়ুয়ারাও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে৷
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশেই এ দিন সফল ভাবে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস৷ রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের উদ্যোগে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুরনো ঐতিহ্যকে ফেরানোর কথা মনে করিয়ে রাজ্যবাসী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে যোগের সঙ্গে কোনও যোগ ছিল না। কারণ আজও জানা নেই। পশ্চিমবঙ্গবাসী যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ফল স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গে যোগ হচ্ছে। ইতিমধ্যই ২ লক্ষ ৫৭ হাজার রেজিস্ট্রেশন করেছে। আমার বিশ্বাস দার্জিলিং থেকে সব জায়গায় কোটি কোটি মানুষ অংশ নেবে। আমি বিশ্বাস করি কলকাতার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। এই যোগ পশ্চিমবঙ্গের পুরনো সংস্কৃতি। ইতিহাস আমরা জানি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাব যিনি হারিয়ে যাওয়া যোগকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে দিলেন। তিন বার ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীকে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘২১ জুন সবথেকে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। যোগ সবাইকে জুড়ে দেয়। গীতায় যোগের কথা বলেছে শ্রীকৃষ্ণ। যোগ জীবনশৈলিতে ভারসাম্য আনে। ৭০ বছর বয়সেও ৫০ বছরের অনুভূতি দেয় যোগ। ৪০ বছরেও ২০ বছরের ফিটনেস দিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসের গুরুত্বের কথাও জানান তিনি। এছাড়াও তিনি জানান, যোগ মানসিক স্বাস্থ্যও ভাল রাখে। ১২০ দেশের ৩০ লাখের বেশি লোক এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন।’
Kolkata,West Bengal




Post Comment