ইডেনে ক্রীড়ামন্ত্রী, সৌরভ-ঝুলনদের সঙ্গে কী আলোচনা হল? ইন্দ্রনীল খাঁ বললেন…
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে গিয়ে তাঁকে রবিবার ফাইনাল দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতে রবিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইাল দেখতে ইডেনে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
যদিও তিনি যতক্ষণ ছিলেন, বৃষ্টিতে খেলা শুরু করা যায়নি। তার মাঝেই ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে সদস্যদের আলাপ করিয়ে দেন সৌরভ। ক্লাব হাউসের তিনতলায় কনফারেন্স রুমে দেখা গেল ইন্দ্রনীল খাঁর সঙ্গে সৌরভের পাশাপাশি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামী, অরুণ লাল, অশোক মলহোত্রর মতো অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সিএবি পদাধিকারী এবং সদস্যরা কথা বলছেন। সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একাধিক সদস্যও ছিলেন সেখানে।
ইডেন ছেড়ে বেরনোর সময় ইন্দ্রনীল খাঁ বললেন, ‘সারা বিশ্বের ক্রিকেটের আঁতুরঘর ভারত। আর ক্রিকেটের ঐতিহ্যশালী এক স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেন্স। সেখানে এসেছিলাম বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালে। তবে পরিবেশ প্রতিকূল আছে। বৃষ্টিতে ম্যাচ বিলম্বিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে খেলা হয়। শুধু কলকাতায় নয়, ঝাড়গ্রাম, কোচবিহার, জঙ্গলমহল সহ সর্বত্র যাতে ক্রিকেটের প্রসার হয় সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স সহ অন্যান্য দলগুলিতে দেখছিলাম বাঙালি সহ পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতিনিধিত্ব কম হচ্ছে। আগামীদিনে বাংলার ছেলেমেয়েরাও যেন পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
কয়েকদিন আগে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া খোলা চিঠিতে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে ময়দানকে দুর্নীতিমুক্ত করার আবেদন করেছিলেন। পরেরদিন সৌরভের সিএবি-ও পাল্টা চিঠি দিয়ে জানায়, কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে চলছে রাজ্যের ক্রিকেট প্রশাসন। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়। বলা হয়, অভিষেক যেখানে কোনও সংস্থার নাম নেননি, সেখানে সিএবি কেন আব বাড়িয়ে সাফাই দিতে গেল!
সেসব নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে? ইন্দ্রনীল বললেন, ‘আমি খেলা দেখতে এসেছিলাম, ইনফর্মাল আলোচনা হয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়নি। রাঢ়বঙ্গের একটা টিম খেলছে, মালদা, মুর্শিদাবাদের ছেলেমেয়েরা খেলছে। ভবিষ্যতে যাতে জেলায় খেলা ছড়িয়ে পড়ে, সেসব নিয়েই কথা হয়েছে। আমি এসেছিলাম দর্শকাসনে বসতে।’
যোগ করলেন, ‘বাঙালিরা যেমন ফুটবল নিয়ে মাতোয়ারা থাকি, সেরকমই ক্রিকেট আমাদের প্রত্যেকের গর্ব। তো সেই ক্রিকেটের যাতে উন্নতি হয়, পশ্চিমবঙ্গের সব জায়গা থেকে যাতে ক্রিকেটারেরা উঠে আসে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ঝুলনদি ছিলেন। মহিলারাও যাতে সুযোগ পান, মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি নিয়ে কথা হয়েছে। ঝুলনদি কিছু কথা বলেছেন। অরুণ লাল, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, এরকম অনেকে ছিলেন। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। সকলের সঙ্গে মত বিনিময় হয়েছে।’ ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বললেন, ‘সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে ক্রিকেটকে যেভাবে আমরা রাজনীতিমুক্ত রেখেছি, পশ্চিমবঙ্গেও ক্রিকেট সহ সব খেলাধুলোকে রাজনীতিমুক্ত হব। খেলার ময়দানে খেলাই হবে, রাজনীতি হবে রাজনীতির জায়গায়।’
জানা গেল, স্পোর্টস কোটায় ক্রীড়াবিদদের চাকরি দেওয়া, জেলার উঠতি ক্রিকেটারদের কলকাতায় থাকার বন্দোবস্ত করা, সিএবি-র সঙ্গে মিলে একটি অ্যাকাডেমি গড়ার মতো একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রীকে।
FIFA World Cup 2026: মহাকাশে বিশ্বকাপের ফুটবল! ‘Trionda’ নিয়ে গবেষণা করছে NASA?



Post Comment