Money Making Tips: জলাশয়ের অভিশাপই এখন ‘আশীর্বাদ’! ফালতু কচুরীপানাই কীভাবে মহিলাদের দিচ্ছে মাসের শেষে মোটা রোজগার? জানুন

Money Making Tips: জলাশয়ের অভিশাপই এখন ‘আশীর্বাদ’! ফালতু কচুরীপানাই কীভাবে মহিলাদের দিচ্ছে মাসের শেষে মোটা রোজগার? জানুন

Last Updated:

Money Making Tips: যে কচুরীপানাকে এতদিন জলাশয়ের আবর্জনা ভাবা হতো, আজ তা-ই হালিশহরের বহু পরিবারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। স্থানীয় সমাজকর্মীদের উদ্যোগে কচুরীপানার আঁশ থেকে তৈরি হচ্ছে নানা শৌখিন সামগ্রী, যা বিক্রি করে প্রতি মাসে ভাল টাকা আয় করছেন এলাকার পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলারা।

+

হালিশহরে কর্মশালায় বসে মহিলারা শুকনো কচুরীপানা দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাগ ও ডায়েরি তৈরি করছেন

উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: কচুরীপানা এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, আগাছা থেকেই স্বনির্ভরতার নতুন দিশা দেখাচ্ছে হালিশহর। যে কচুরীপানাকে এতদিন জলাশয়ের অভিশাপ বলে মনে করা হত, সেই কচুরীপানাই আজ বহু মহিলার জীবনে এনে দিয়েছে স্বনির্ভরতার আলো। উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে কচুরীপানা শুকিয়ে তার আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী। আর সেই শিল্পকে কেন্দ্র করেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন এলাকার ৫০ থেকে ৬০ জন মহিলা।

হালিশহরের সমাজকর্মী রেহেনা খাতুন, গৌরব আনন্দ ও কৌশিক মণ্ডলের উদ্যোগে চলছে এই অভিনব প্রকল্প। জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা কচুরীপানা প্রথমে রোদে শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেই উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে লেডিজ ব্যাগ, শাড়ি, ডায়েরি, গয়না, ফাইল, পেনদানি, ট্রে, ফলের সাজি-সহ বিভিন্ন শৌখিন ও ব্যবহারিক সামগ্রী। কর্মশালায় তৈরি পণ্যগুলির নকশা ও গুণমান ইতিমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। পরিবেশবান্ধব এই সামগ্রীগুলির চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। প্লাস্টিক বা অন্যান্য কৃত্রিম উপকরণের বিকল্প হিসেবে কচুরীপানা থেকে তৈরি পণ্য এখন বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অনেকটাই সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলাদের অনেকেই এখন নিয়মিত আয় করছেন এবং সংসারের আর্থিক দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: দিঘা উপকূলে উন্নয়নের মেগা প্ল্যান সরকারের! আমজনতার জীবনে আমূল বদলের অপেক্ষা, কী হতে চলেছে জানুন

কর্মরত এক মহিলার কথায়, আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে নিজের হাতে তৈরি পণ্য থেকেই মিলছে আয়, আর তাতেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছেন। শুধু আর্থিক স্বনির্ভরতা নয়, এর মাধ্যমে তাঁরা পেয়েছেন নতুন আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক পরিচয়ও। তবে বর্তমান পরিকাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই ছোট। জায়গার অভাবে মহিলাদের ভাগ করে কাজ করতে হলেও তাঁদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। উদ্যোক্তা কৌশিক মণ্ডল জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে এলাকার আরও বেশি মহিলা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে পারেন। কেউ এই বিষয়ে আগ্রহী থাকলে তিনি ওয়েবসাইট সহ হালিশহরের এই কেন্দ্র ও মছলন্দপুরে সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। এখনও কোনো সরকারিভাবে সাহায্য মেলেনা, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সরকার যেখানে কর্মসংস্থান তৈরির নানা দিক তুলে ধরছে সেই জায়গায় এই কাজে সরকারি সাহায্য মিলে আরও বহু মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন: মাংস, চাটনি, পাঁপড়…! মিড-ডে মিলের পাতে জিভে জল আনা মেনু, কাটোয়ার স্কুলে এলাহি কাণ্ডের কারণ জানলে কুর্নিশ জানাবেন

রেহেনা খাতুন জানান, প্রায় দু’বছর ধরে এভাবেই বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন মহিলা এই কচুরিপানার মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। সংখ্যালঘু মহিলাদের পাশাপাশি এলাকার মহিলারা সংসার সামলে অবসর সময়ে কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়েই মাসে প্রায় তিন হাজার টাকার অধিক আয় করতে পারছেন এই কাজের মাধ্যমে। আর তাতেই তারা খুশি বলেও জানান। একসময় যে কচুরীপানাকে জলাশয় পরিষ্কারের জন্য তুলে ফেলে দেওয়া হত, আজ সেই আগাছাই হালিশহরের বহু পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে রোজগারের অন্যতম ভরসা। পরিবেশ রক্ষা এবং নারী স্বনির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে এই উদ্যোগ।

Previous post

ক্রীড়ায় দুর্নীতি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ ইন্দ্রনীল খাঁ-র, আজ লিয়েন্ডারের সঙ্গে বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী

Next post

২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসি ম্যাজিক! আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে গড়লেন নতুন রেকর্ড

Post Comment

You May Have Missed