কেন ইস্তফা ? মুখ খুললেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক
উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: অনেকেই আগে চলে গেছেন। সে সাংসদ হোক কিংবা বিধায়ক, কয়েক দশকের অনুগামী হোক কিংবা কয়েক বছরের পরিচিত। রাজনীতিবিদ হোক কিংবা ফিল্ম স্টার অথবা প্রাক্তন ক্রিকেটার। এবার একে একে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ছায়া সঙ্গীরাও ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। যে ববি-অরূপ-বালুর কথা সবসময় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মুখে শোনা যেত। ভোটে বির্যয়ের পর তাঁরাও এখন আর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ছায়া মারাতে চাইছেন না। গত শনিবারই যাঁকে দলের নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ স্তর, জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরেক শনিবার আসার আগেই সেই তিনিই। জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য-সহ যাবতীয় দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
ক্ষমতায় আসার আগে সংগঠনে এবং ক্ষমতায় আসার পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সামলেছেন খাদ্যমন্ত্রী, বনমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। আবার সংগঠনগতভাবেও একাধিক জেলার অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, এ হেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও এবার দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়ায় ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বড় ধাক্কা খেলেন।
শুক্রবার তৃণমূল নেত্রীকে চিঠি দিয়ে দলের পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। যেখানে তাঁর দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে, শারীরিক অবস্থার অবনতিকেই দায়ী করেছেন তিনি। লিখেছেন, আমার ৩৫০-এর ওপর সুগার। কিডনিও খারাপ হয়ে গেছে। আমার সম্পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন এবং কোনওপ্রকার মানসিক ও শারীরিক চাপ নেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্যপদের দায়িত্ব পালনে অব্যাহতি চেয়ে নিলাম। সদ্য় তৃণমূলত্য়াগী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, প্রত্য়েকেই জানে। দলও জানে। দলের নেত্রীও জানেন। আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। গত ৪-৫-৬ বছর ধরে। এমন খারাপ হয়েছে, এখন ৩৫০ আমার সুগার। আমার ২টো কিডনিই প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমি থাকতে পারছি না। কারণ আমি দলের কোনও কাজকর্মে থাকতে পারব না। আমার পক্ষে সম্ভব না। তার জন্য় পদত্য়াগ করেছি। আজকে জানিয়েও দিয়েছি মেল করে।
ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূলের টিকিটে জেতা সিংহভাগ বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। ফলে বিরোধী দলের রাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। তৃণমূলের টিকিটে জেতা লোকসভায় দলের ২০ জন সাংসদ মিশে গিয়েছেন অন্য দলে। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক কর্পোরেশন ও পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে। তৃণমূলের মধ্যেই হয়ে গেছে আড়াআড়ি বিভাজন। আর সেখানেই কার্যত দিন দিন আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’।
বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তার নামার ছবি, যেখানে দোলা, কুণাল ছাড়া আর কেউ পাশে নেই। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও এদিন দলের সব পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অসুস্থতা ছাড়াও কি অন্য বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে? এবারও যিনি ভোটে লড়েছেন তিনিই হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? নেপথ্য়ে বড় কোনও কারণ?
এবিপি আনন্দ: এখানে কি কোনও মান-অভিমানের কোনও বিষয় রয়েছে?
সদ্য় তৃণমূলত্য়াগী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক : আমার কোনও মান-অভিমানের ব্য়াপার নেই। আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমি ২ বছর বাঁচব কিনা জানি না। আমার এমন কন্ডিশন যে মারাত্মকভাবে। সেই জন্য় আমি ছেড়ে দিলাম। কেন পদ আঁকড়ে আর বসে থাকব শুধু শুধু আমি।
এবিপি আনন্দ: আচ্ছা। এই কঠিন সময় আমরা দেখেছি বেশ কয়েকজন তাঁরা ছেড়েছেন, বা দলের মধ্য়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই বিষয়গুলো আপনি কীভাবে দেখছেন?
সদ্য় তৃণমূলত্য়াগী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক : কারও ব্য়ক্তিগত মতামতে আমি কিছু বলতে পারি না। তারাও তো আমার মতো… আমার বয়সি লোক। তারাও স্বাধীনচেতা। তারা যা ভেবেছে, নিশ্চয়ই করেছে। তারা কিছু বুঝেছে বলে ভেবেছে, করেছে। পজিটিভ কিছু করছে। আমি মনে করি, আমার আর থাকা উচিত নয়। পদ আঁকড়ে থেকে। শুধু শুধু কেন থাকব আমি?
এবারও হাবড়া থেকে ভোটে লড়েন জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর হয়ে প্রচারে গেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাঁরই হঠাৎ ইস্তফা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য় বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন,দলটাই তো নেই। তার আবার অব্য়াহতির কী আছে? দল যেখানে নেই, তার দলীয় পদ, তার অব্য়াহতি এতো অদ্ভুত কথা। আর দলীয় পদ থেকে অব্য়াহতি চাইলেই বা দলের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্য়াহতি চাইলেই কি আপনারা মনে করেন, সমস্ত কৃতকর্ম তাঁকে ছেড়ে চলে যাবে? বেআইনি যা কিছু হয়েছে, তিনি যিনি হোন না কেন, তাঁকে আইনে… আসতে হবে। কুণাল ঘোষ বলেন, ওনার চিঠিটা আমি দেখিনি। কিন্তু যদি কোনও ব্যক্তি, কোনও সিনিয়র নেতা কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে তিনিই নিশ্চয়ই তাঁর বিষয়টা বলতে পারবেন। আমার তাঁর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। ফলে আমি কীভাবে তাঁর সম্পর্কে বলব?
TMC News: “পার্টির খরচা করে গিয়ে থাকলে সমর্থন নয়”, Abhishek Banerjee-র Delhi সফর নিয়ে Kunal Ghosh



Post Comment