বিধায়ক বাবাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ… বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা এখন মন্ত্রী

বিধায়ক বাবাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ… বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা এখন মন্ত্রী

Last Updated:

হুগলির বলাগড় বিধানসভা থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন সুমনা সরকার। প্রতিদ্বন্দ্বী হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারাকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন সুমনা।

বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা এখন মন্ত্রী
বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা এখন মন্ত্রী

বলাগড়: বাবা ছিলেন বিধায়ক, মেয়ে মন্ত্রী হলেন। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা সরকার। বাবার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে চান তিনি। জানালেন, আজ বাবা, মা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। তবে দায়িত্ব অনেক বাড়ল বলেও জানান সুমনা। এদিন লোকভবন থেকে শপথগ্রহণ সুমনা  সোজা চলে আসেন ত্রিবেণীর শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে ফুল মিষ্টি দিয়ে তাঁকে সম্বর্ধনা জানাতে হাজির হন প্রতিবেশী থেকে আত্মীয় স্বজনরা।

বাবা বীরেন সরকার ছিলেন কংগ্রেসের বিধায়ক। মা গীতা সরকার। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে গান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ করেন সুমনা। বাড়ি বলাগড়ের সোমরা মধ্যপাড়ায়। বিয়ে হয়েছে শিবপুরের হাজরাপাড়ায়। বর্তমানে সেখানে থাকেন শাশুড়ি নিভা সরকার, স্বামী বিদ্যুৎ সরকার, ছেলে শুভায়ু সরকার। স্বামী ব্যবসায়ী, ছেলে নবম শ্রেণির পড়ুয়া। বাবাকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সদস্য ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের। পরে ২০১৮ সালে জিতে হুগলি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি হন। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার বিধায়কের টিকিটে জিতেই মন্ত্রীত্ব।

সুমনা বলেন, ‘বহু লড়াইয়ের পর ৪৩ হাজারের কাছাকাছি ভোটে জিতেছি। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে মাটির মেয়ে হিসেবে আমাকে প্রার্থী করেছে দল। বলাগড়ের মানুষ দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। আমি ভাবতে পারিনি আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে। গতকাল রাতেই আমার কাছে ফোন আসে। এই খুশির আনন্দে আমি চোখে জল ধরে রাখতে পারেনি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ-সহ সমস্ত নেতৃত্বকে আমি প্রণাম, কৃতজ্ঞতা জানাই। দল যে আমার উপর ভরসা রেখেছে সেটাই আমার কাছে বিরাট ব্যাপার। বাবা বলাগড়ের বিধায়ক ছিলেন। সেই জায়গাটাও আমার খুব কাজে লেগেছে। লোকভবন থেকে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলাগড়ের মানুষের জন্য শপথ নিয়েছি। সকলকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার জন্য আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। ইতিমধ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার বংশধরদের সঙ্গেও কথাবার্তা হয়েছে অমিত সাহ এর প্রতিশ্রুতি মতোই আমরা কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘বলাগড়ের ভাঙ্গন প্রবন প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা ইতিমধ্যেই সরকারি তরফে আলোচনা হয়েছে। বর্ষার পর নভেম্বর ডিসেম্বরের পর থেকে কাজ শুরু হবে। বলাগড়ে তৈরি হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট। ৯০০ একর জমিতে বন্দর তৈরি হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে। রাস্তাঘাট ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে বলাগরে। আমরা চেষ্টা করব যত তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করার। পানীয় জলের সমস্যা থেকে বলাগড়ের নৌকা, ফুলের ক্লাসটার সবকিছুই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা হবে। বলাগড়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। আগের দল জমি নিয়েও দুর্নীতি করে গিয়েছে।’

সুমনা সরকারের শাশুড়ি মা নিভা সরকার বলেন, ‘আমি কখনোই ওকে সংসারে আটকায়নি। আমি সব সময় চেয়েছি ও কিছু একটা হোক। আজকে মন্ত্রী হওয়াতে আমরা খুব খুশি।’

Previous post

‘তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে…’, কী বলছেন মন্ত্রী তাপস রায়

Next post

Suvendu Adhikari: ‘সব চোরেদের পাঠশালা, কালীঘাটের টালির চালা’, সই-জাল কাণ্ডে তৃণমূলকে চরম খোঁচা শুভেন্দুর, কঠোর ব্যবস্থা নেব, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Post Comment

You May Have Missed