মানতেই হবে RBI-এর এই সব নিয়ম ! কড়া নির্দেশ ব্যাঙ্কগুলোকে, গ্রাহকরা কী ক্ষতির মুখে পড়বেন ?

মানতেই হবে RBI-এর এই সব নিয়ম ! কড়া নির্দেশ ব্যাঙ্কগুলোকে, গ্রাহকরা কী ক্ষতির মুখে পড়বেন ?

দিল্লি : আরবিআই (RBI) সর্বদাই গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য এগিয়ে আসে এবং গ্রাহকদের সাহায্যের চেষ্টা করে। আর এই লক্ষ্যে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলোকে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে। যেখানে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্ক তাদের গ্রাহকদের কোনোভাবেই বিভ্রান্ত না করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে। যদি কোনো ব্যাঙ্ক এমনটি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সম্প্রতি ব্যাঙ্কগুলির জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অনুসারে, কোনও ব্যাঙ্ক তার গ্রাহকদের উপর কোনও ধরণের স্কিম চাপিয়ে দিতে পারবে না, বা তাদের বিভ্রান্তও করতে পারবে না। ১৫ জুন, ২০২৬-এ আরবিআই “রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক) দ্বিতীয় সংশোধনী নির্দেশিকা, ২০২৬” জারি করেছে। এই নির্দেশিকাগুলি সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের জন্য প্রযোজ্য। স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট ব্যাঙ্ক, রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক এবং লোকাল এরিয়া ব্যাঙ্কের জন্য আলাদা নির্দেশিকা রয়েছে। আরবিআই-এর এই নির্দেশিকাগুলো ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। এই নির্দেশিকার পর ব্যাঙ্কগুলোকে তাদের সিস্টেম উন্নত করার জন্য সাড়ে ছয় মাস সময় দেওয়া হচ্ছে।

আরবিআই-এর নির্দেশিকায় কী কী বলা হয়েছে ?

১. ব্যাঙ্কগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত সকল ডিএসএ এবং ডিএমএ-দের একটি তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যেকোনও পরিবর্তনের সাত দিনের মধ্যে তা আপডেট করতে হবে।

২. ব্যাঙ্কের শাখাগুলোকে অবশ্যই তাদের কর্মী, এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে পোশাক বা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পার্থক্য করতে হবে।
৩. ডিএসএ এবং ডিএমএ-এর কাছ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নিন যে তারা এবং তাদের সাব-এজেন্টরা ব্যাঙ্কের ‘আচরণবিধি’ মেনে চলবেন।

৪. উক্ত ‘আচরণবিধি’ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সকলের জন্য প্রদর্শন করতে হবে।

৫. এজেন্টরা শুধুমাত্র সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

৬. এজেন্টরা গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া তার বাড়ি বা অফিসে যেতে পারবেন না। তারা ব্যাঙ্ক কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।
কোনো তৃতীয় পক্ষের কর্মচারী ব্যাঙ্কের কর্মী হিসেবে দাবি করতে পারবেন না বা ব্যাঙ্কের  পক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।

৭. কোনো তৃতীয় পক্ষের কর্মচারী ব্যাঙ্কের কর্মী হিসেবে দাবি করতে পারবেন না বা ব্যাঙ্কের পক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।

৮. কোনও ব্যাঙ্ক তার গ্রাহকদের উপর কোনও ধরণের স্কিম চাপিয়ে দিতে পারবে না, বা তাদের বিভ্রান্তও করতে পারবে না। 

ব্যাংকগুলো কীভাবে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে?

বিভিন্ন ব্যাঙ্ক তাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্ত করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন গ্রাহক কোনও বিষয় নিয়ে যদি জিজ্ঞাসার জন্য ব্যাঙ্কে যান, তখন কিন্তু তার পরিবর্তে তাঁকে কোনও স্কিম বা বীমা পলিসির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়াও, অনলাইন পরিষেবাগুলিতেও অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকে, যেগুলিতে ক্লিক করার ফলে গ্রাহক তার সম্মতি ছাড়াই সেই পণ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করার জন্য আরবিআই এই নির্দেশিকা জারি করেছে।

Previous post

LIC-র বাম্পার হিট স্কিম! প্রতিদিন মাত্র ১৭২ টাকা করে দিয়ে পেয়ে যেতে পারেন ২৮ লাখ টাকা

Next post

Arup Biswas Update in Messi Case: কালো কাচের গাড়িতে হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের! ‘প্রশ্নপত্র’ হাতে অপেক্ষায় পুলিশ, মেসি কাণ্ডে চরম বিপাকে প্রাক্তন মন্ত্রী

Post Comment

You May Have Missed