গান গাইতেও ‘কাটমানি’, প্রতিবাদ করলেই ‘ব্যান’? ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সঙ্গীতশিল্পী

গান গাইতেও ‘কাটমানি’, প্রতিবাদ করলেই ‘ব্যান’? ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সঙ্গীতশিল্পী

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার পর এবার ক্ষোভের সুর শোনা গেল সঙ্গীত জগতে! তৃণমূল সরকার ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে লবিবজি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করলেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Riddhi Bandyopadhyay)। এবিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। উত্তর দেননি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের।

গান গাইতেও ‘কাটমানি’?

টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ার পর এবার বেসুরো হয়ে উঠল সুরের জগৎ! তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সঙ্গীত জগতেও উঠল কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ! লবিবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেই বলছেন, ‘তাঁরা ৪-৫টা করে, ৬-৭টা করেও এক একজন অনুষ্ঠান পেতেন। এবং প্রত্যেকে হাই পেমেন্ট পেতেন। সেটা ব্যাঙ্কে পড়ত। সেখান থেকে টাকাটা রিটার্ন হয়ে আবার চলে আসছে অন্য জায়গায়, তোলার মতো করে বা কাটমানির মতো করে।’ কিন্তু কে নিচ্ছে এই টাকা? প্রশ্ন করা হলে ঋদ্ধি সেন স্পষ্টই বলেন, ‘কে নিতে পারে, আমি তো বার বার একটা নামই বলছি। ইনি এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। আপনি আমার ব্যাঙ্কে রাখলেন ১০ হাজার টাকা, বলছে, তুমি কিন্তু আমাকে ২ হাজার টাকা ব্যাক করে দিও।’

সঙ্গীতের দুনিয়াতেও ছিল ‘ব্যান কালচার?’

শিল্পীর অভিযোগ, এসবের প্রতিবাদ যাঁরা করেছিলেন বলে তাঁদেরকে ব্যান করা হয়। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘ আমি মোটামুটি শেষ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যান ছিলাম।  ইন্দ্রনীল সেনের আন্ডারে যে চক্রটা চলত… বিভিন্ন রকম মঞ্চে দেখতেন যে, পাঁচালি গাইছেন, কীর্তন গাইছেন। তাঁদের অনেকেই আছেন, যাঁরা সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সমস্তই আমাদের গায়ক মন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর একটা লবি, তাঁর সিন্ডিকেট।’ ইন্দ্রনীল সেনই ছিলেন এই লবির মাথা? ঋদ্ধির সাফ জবাব, ‘অবশ্যই। তাঁর একটা লবি, তাঁর সিন্ডিকেট। তাঁর একটা নেক্সাস চলত। যারা তাকে সকাল থেকে হুজুর হুজুর বলে ফোন ঘোরাত, টাকা দিত, গিফট দিত, সময় দিত, সঙ্গ দিত… । কিছু কিছু শিল্পী আছেন, তাঁরা কাজ পেয়েছেন সরকারের সাথে সেটিং করে।’

প্রতিবাদ করলে, হল পাওয়া নিয়ে সমস্যা?

প্রাক্তন মন্ত্রীর পাশাপাশি, সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন ঋদ্ধি। সঙ্গীতশিল্পী আরও বলেন, ‘সরকারি আধিকারিকরা ইনভলভড। আমি আমার রাজ্যে সরকারি কাজ পাই না। আমার নাম দেখলে, আমি সরকারি হলও পাই না। আমাকে দেওয়া হবে না, এটা মনোপলি? কারও বাবর সম্পত্তি? রবীন্দ্রসদন কি ইন্দ্রনীল সেনের বাবা এসে তৈরি করে গেছিলেন? পরের দিকে সমস্ত কিছু নবান্ন থেকে বলে দেওয়া হত, কে (হল) পাবে, কে পাবে না। আমাদের এই ফ্রেটারনিটিগুলো পচে গেছে! চারিদিকে কীটপতঙ্গের মতো লোকজন ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজেরটা হয়ে গেল নিজের ধান্দাটা হয়ে গেল, চুপ!’

রাজনীতি প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল

গেরুয়া সুনামিতে পালা বদলে গেছে রাজ্যে। ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমতাচ্যুত হতেই ঘরে-বাইরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উগরে উঠছে ক্ষোভ।
এমনকী ক’দিন আগে, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও। তাঁর কথায়, ‘এই মুহূর্তে যদি আমাকে চয়েস জিজ্ঞেস করেন. যে সামনে এখন কোনও ভোট নেইও, তাই ওই ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে এখন আমি ভাবছি না। ৪ মে-ও ভাবিনি আমি চন্দননগরে ওখান থেকে হারব। ওখানকার মানুষ আমার থেকে হয়তো আমার থেকে আরও বেশি কিছু চেয়েছিলেন। আমি সেটা দিতে পারিনি। মানুষ তাই ভোট দেয়নি।’

সেই ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেই এখন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করছে শিল্পীদের একাংশ। টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় যেমন ‘ব্যান’ রাজনীতি, শিল্পী ও শিল্পের ওপর ‘শাসকের শাসন’ থেকে একাধিপত্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের ‘বিশ্বাস ব্রাদার্সের’ বিরুদ্ধে। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। উত্তর দেননি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের।

আরও পড়ুন: Naga Chaitanya: প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়! হাইকোর্টের দ্বারস্থ নাগা চৈতন্য

Post Comment

You May Have Missed