শেয়ার বাজারে নতুন? জেনে নিন IPO কী এবং কীভাবে আপনি এখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন ?
ধরুন, আপনি একটি ছোট চায়ের দোকান খুলেছেন, যা খুব ভালো চলছে। এবার আপনি শহরের বিভিন্ন জায়গায় আরও ১০টি নতুন শাখা খুলতে চান। কিন্তু এত টাকা আপনার কাছে নেই। তখন আপনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বললেন, “আমাকে টাকা দিন, বদলে আমার ব্যবসার সামান্য অংশীদার হয়ে যান।” বড় কোম্পানিগুলি যখন প্রথমবার শেয়ার বাজারে এসে ঠিক এই কাজটাই করে, তখন তাকে IPO বলা হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানি সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে এবং সেই টাকা ব্যবসা বাড়ানো বা পুরনো ঋণ শোধ করার কাজে ব্যবহার করে।
IPO-তে বিনিয়োগ করলে কী কী লাভ হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক IPO বেছে নিতে পারলে বিভিন্নভাবে লাভ করা সম্ভব।
অনেক সময় কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি IPO-তে ১০০ টাকায় কোনও শেয়ার কিনে থাকেন এবং বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার দাম ১২০ টাকা হয়ে যায়, তাহলে প্রথম দিনেই প্রতি শেয়ারে ২০ টাকা লাভ হতে পারে।
অনেক কোম্পানি শুরুতে তুলনামূলক কম দামে শেয়ার অফার করে। ভবিষ্যতে কোম্পানির ব্যবসা ভালো চললে সেই বিনিয়োগের মূল্য অনেক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
যদি কোনও শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখা যায়, তাহলে কোম্পানির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আপনার বিনিয়োগের মূল্যও বাড়তে পারে।
অনেক কোম্পানি লাভ করলে তার একটি অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠায়। ফলে শেয়ার না বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় হতে পারে।
IPO-র মাধ্যমে শেয়ার কিনলে আপনি সেই কোম্পানির একজন অংশীদার হয়ে যান। কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়ার অধিকারও পেতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব IPO যে লাভ দেবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির ব্যবসা, লাভের হিসাব এবং পরিচালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।



Post Comment