এবার পদ ছাড়লেন তৃণমূলের বড় নেতা, চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, লিখলেন, ‘মন সায় দিচ্ছে না’
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি। দলকে কাঠগড়ায় তুলে এবার জাতীয় মুখপাত্র পদ ছাড়লেন শান্তনু সেন। দলীয় পদ ছাড়তে চেয়ে চিঠি পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। আর জি কর হাসপাতালে দুর্নীতি, অভয়াকাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলেন চিঠি। কোনওভাবে মন এগুলোকে মানতে সম্মতি দিচ্ছে না, চিঠিতে ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। (Santanu Sen)
কাকলি ঘোষ দস্তিতার, সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর পর এবার তৃণমূলের পদ ছাড়লেন শান্তনু। সরাসরি মমতাকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। পদ ছাড়ার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আর জি কর কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ এবং দুর্নীতির জন্য তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলার মানুষ। এমন অবস্থায় দলের মুখপাত্র হিসেবে দলের নীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে বা দলের বক্তব্যকে সমর্থন করতে তাঁর মন সায় দিচ্ছে না। তাই জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। (TMC News)
ইতিমধ্যেই মমতার কাছে শান্তনুর পদত্যাগপত্র পৌঁছে গিয়েছে। চিঠিতে শান্তনু জানিয়েছেন, মানুষের রায়ে বিপুল সংখ্য়াগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। মানুষের সেই রায় মাথা পেতে নিতেই দলের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। মমতা যাতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন, সেই মতো আর্জি জানিয়েছেন শান্তনু। একদিন আগেই মুখ খুলেছিলেন শান্তনু। আর জি কর কাণ্ডের পরই দলের নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন শান্তনু। কিন্তু দল তাঁর কথা শোনেনি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের, গুজরাতিদের অপমান করার অভিযোগ
এদিন শান্তনু বলেন, “তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে ছিলাম আমি। দল আমাকে যখন যা দায়িত্ব দিয়েছিল, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। দল আমাকে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছিল। এমন বহু ঘটনা, যাকে কোনও ভাবে সমর্থন করা যায় না, মন সায় দেয় না, সাধারণ মানুষ সমর্থন করতে পারেন না…তা জেনেও শুধুমাত্র দলের মুখপাত্র হিসেবে সর্বত্র ডিফেন্ড করতে করতে গিয়েছি। তার জন্য অনেক কথা শুনেছি, হজম করেছি। কিন্তু রাজনীতিটা মানুষের জন্য। সেই বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের ৪ মে বিপুল মতদানের মাধ্যমে যখন বুঝিয়ে দিলেন যে চাকরি চুরি, আর জি কর কাণ্ড, অভয়াকাণ্ড-সহ পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন তাঁরা, সেক্ষেত্রে মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করা উচিত। এর পর আমার মন আর কোনও ভাবে সম্মতি দেয় না যে দুর্নীতিগুলিকে সমর্থন করতে হবে। তাই আজ তৃণমূলের সভানেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জাতীয় মুখপত্রের পদ থেকে সরে যাওয়ার ইস্তফাপত্র পাঠালাম।”
আরও পড়ুন: শৃঙ্গ জয় করে নামার পথে মৃত্যু পর্বতারোহীর, এভারেস্টেই দেহ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবারের
তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রই নন শুধু, একসময় তৃণমূলের সাংসদও ছিলেন রাজ্যসভার। আর জি কর আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন। দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সাসপেন্ডও করা হয় তাঁকে। নির্বাচনের আগে যদিও সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব নিয়ে কানাঘুষো চলছিলই। শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়তে চেয়ে চিঠি দিলেন মমতাকে।



Post Comment