বেহালার TMC কাউন্সিলরের জুলুমে বাড়ি করতে না পারার অভিযোগ পুলিশকর্মী ও প্রাক্তন সেনাকর্মীর
কলকাতা : গত শনিবারই তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। এবার সেই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ। কারও জমিতে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, কারও জমি প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিত তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুগামী। এমন অভিযোগে হরিদেবপুর থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগও।
গ্রেফতার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তো কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ। শনিবারই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে উঠছে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। হরিদেবপুরের বাসিন্দা জিতেন চক্রবর্তী। পেশায় কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট। বর্তমানে পোস্টিং মেটিয়াবুরুজ থানায়। ২০১৯ সালে সখেরবাজারে জমি কিনেছিলেন তিনি। অভিযোগ, জমি ভরাটের কাজ শুরু করতেই ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অনুগামীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। বলা হয় কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠদের থেকে চড়া দামে মাটি কিনতে। অভিযোগ, তাঁদের থেকে মাটি না কেনায় আটকে দেওয়া হয় জমি ভরাটের কাজ।
লেকটাউনে মেসির এত বড় মূর্তি অক্ষত অবস্থায় কি নামানো যাবে? কী মনে করছেন ইঞ্জিনিয়াররা
প্রায় ৭ বছর কাটতে চললেও কাউন্সিলর অনুগামীদের বাধায় বাড়ির কাজ শুরু করতে পারেননি তিনি। সুদীপ পোল্লে গ্রেফতার হওয়ার পরই রবিবার হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা পুলিশের ওই কর্মী। পুলিশ অফিসার জিতেন চক্রবর্তীর স্ত্রী মৌমিতা চক্রবর্তী বলছেন, ‘২০১৯ সালে আমরা জমি কিনেছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুই করতে পারিনি। আমাদের বলা হয় মাটি কাউন্সিলরের লোকেদের থেকে কিনতে হবে। উনি রাজি হননি। দাম চড়া হওয়ায় নেয়নি। মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বললেও কাজ হয়নি। এখন আমরা অভিযোগ জানিয়েছি।’
একই অভিজ্ঞতা হয়েছে সখেরবাজারের বাসিন্দা প্রাক্তন সেনাকর্মী রামপদ মণ্ডলের। ২০১৩ সালে সখেরবাজারের গ্রিনপার্কে জমি কেনেন তিনি। অভিযোগ, তাঁকেও জমিতে মাটি ফেলতে বাধা দেয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অনুগামীরা। এমনকী বাধা দেওয়ায় বিদ্য়ুৎ সংযোগেও। হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন সেনাকর্মীও। প্রাক্তন সেনাকর্মী রামপদ মণ্ডল বলছেন, ‘১৩ বছর হয়ে গেল জমির কাজ শুরু করতে পারিনি। মাটি কিনতে জোর করা হয়েছিল। বিদ্য়ুতের সংযোগ নেওয়ার সময় কাজ আটকে দেওয়া হয়। জমি প্রোমোটারকে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।’ সব মিলিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে।



Post Comment