‘এই মহিলা বাংলায় ভোট লুঠের সবথেকে বড় নেত্রী’, মমতাকে তীব্র আক্রমণ অধীরের…
কলকাতা : স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। গতকালই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে পৌঁছে গিয়ে ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই ইস্যুতে পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ শানিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রার্থী অধীর চৌধুরী। অধীর বললেন, “গত পঞ্চায়েত ভোটে এই মুর্শিদাবাদ জেলায় যেখানে ব্যালট বক্স থাকে, সেই বিডিও দফতরে সরকারি অফিসাররা নিজেরা ব্যালট বক্স খুলে সব ব্যালট ফেলে দিয়ে শুধু তৃণমূলের ব্যালটে ছাপ মেরেছেন, আর ঢুকিয়েছেন। দিদি, এই নাটক আপনি করছেন জানি। পাশাপাশি বাংলার মানুষকে বলতে চাই, এই মহিলা এই বাংলায় ভোট লুঠের সবথেকে বড় নেত্রী।”
কী ঘটে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলে ?
সন্ধে থেকে মধ্যরাত। গতকাল প্রায় ৪ ঘণ্টা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের সামনেও তৈরি হল ধুন্ধুমারকাণ্ড।
ভোটে উপচে পড়েছে ইভিএম। সেইসব ইভিএম এখন স্ট্রংরুম বন্দি। আর স্ট্রংরুমের বাইরেই ধুন্ধুমার। গতকাল রাতবিরেতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের স্ট্রংরুম কেন্দ্রে পৌঁছে যান খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বসে থাকলেন দীর্ঘক্ষণ। তোলেন চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ। মমতা বলেন, “আপনারা জানেন নেতাজি ইন্ডোরে CCTV ফুটেজ পাওয়া গেছে, আরও অনেক জায়গায়, ওখানে কারচুপি হচ্ছে, আর বাইরের লোক এসে খুলে দেখছে। পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। তারপরও এভাবে EVM লুঠ করার, গণনা লুঠ করার চেষ্টা করে, আমি জীবন বাজি রেখে লড়ব।”
প্রায় চার ঘণ্টা পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে বেরোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুলিশের ভূমিকায়। তিনি বলেন, “নেতাজি ইন্ডোরে যেটা আমরা দেখেছি ক্ষুদিরামে এটা হলে তো মুশকিল না ! আমাকে তো দেখতে হবে, মানুষ যে ভোটটা দিয়েছে, সেই ভোটটা যেন রক্ষা করা যায়। আমাদের কাছে ৬-৭টা অভিযোগ এসেছে বলেই তো ছুটে এসেছি। রাজ্য পুলিশ নিজেরাই যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে, এখন তো আমার হাতে নেই। নির্বাচন কমিশনের হাতে। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারে, এটা তো তাদের দোষ, তাদের ব্যর্থতা।”
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ…সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর পৌঁছন ফিরহাদ হাকিমও। যদিও তিনি ভিতরে ঢুকতে পারেননি। এরপরই সেখানে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে তৃণমূলের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। গাড়িটি সেখানে রাখা নিয়ে আপত্তি তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা।



Post Comment