ফের আকাশছোঁয়া দাম হবে সোনার ? সতর্ক করছেন মার্কেট এক্সপার্টরা, কত রেট হবে ?
Gold Price Hike: বর্তমানে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের সোনা বাজারেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি ভারতের বাজারেও স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বিশুদ্ধ সোনা।
সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সোনা ! আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
সাধারণ মধ্যবিত্তের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে মহার্ঘ সোনা? সাম্প্রতিক বাজারদর এবং বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের আবহে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন ভারতের বাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোনার দাম।
আয় ও সোনার দামের সামঞ্জস্য নেই: রিতেশ জৈন
পাইনট্রি ম্যাক্রোর (Pinetree Macro) প্রতিষ্ঠাতা রিতেশ জৈন সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সোনার দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে মানুষের আয় বাড়ার গতির চেয়ে সোনার দাম বাড়ার গতি অনেক বেশি।
“আপনি যদি গত কয়েক বছরের সোনার দামের ওঠানামা দেখেন, তবে বুঝবেন মানুষের বার্ষিক আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিশ্বজুড়ে সোনার আসল বিক্রিতেও তেমন কোনো বড় উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে না।”
গুণমানের সঙ্গে আপস করছে মানুষ
রিতেশ জৈনের মতে, সোনার দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে মানুষ এখন বিশুদ্ধ সোনার বদলে কম ক্যারেটের গয়নার দিকে ঝুঁকছে। আগে যেখানে মানুষ ২৪ ক্যারেট বা ২২ ক্যারেটের সোনা কিনত, এখন দামের চাপে পড়ে তারা ১৬ এমনকি ১২ ক্যারেটের সোনা কিনতেও বাধ্য হচ্ছে। বিশুদ্ধ সোনা এখন আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
বাজারের বর্তমান চিত্র (২০২৬-এর পরিস্থিতি)
সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
সর্বোচ্চ দর: এমসিএক্স (MCX) বাজারে সোনা একসময় তার রেকর্ড মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বর্তমান সংশোধন: যদিও রেকর্ড উচ্চতা থেকে দাম প্রায় ২৬% কমেছে (বর্তমানে ১০ গ্রাম প্রতি দাম প্রায় ১,৫০,০০০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে), তবুও তা সাধারণ ক্রেতার জন্য যথেষ্ট ব্যয়বহুল।
বাজারের গতিপ্রকৃতি: বাজারে নতুন কোনো বড় পরিবর্তন বা ‘ট্রিগার’ না থাকায় দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই ওঠানামা করছে। কিছুটা দাম কমলেই আবার উচ্চস্তরে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে, ফলে দাম খুব একটা নিচেও নামছে না।
কেন এই অস্থিরতা?
১. মার্কিন-ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
২. টাকার অবমূল্যায়ন: ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম কমতে থাকায় বিদেশ থেকে সোনা আমদানির খরচ বাড়ছে।
৩. মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
উপসংহার:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনিশ্চয়তার পরিবেশ বজায় থাকলে আগামী দিনে সোনা কেনা মধ্যবিত্তের জন্য স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। উৎসবের মরসুম বা বিয়ের কেনাকাটায় এখন থেকেই সোনা জমানোর পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে বড় সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।



Post Comment