সত্যিই কি স্ট্রং-রুমে ঢুকেছিল বহিরাগতরা? তৃণমূলের অভিযোগ শুনে কী জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন?

সত্যিই কি স্ট্রং-রুমে ঢুকেছিল বহিরাগতরা? তৃণমূলের অভিযোগ শুনে কী জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন?

কলকাতা: গতকালই শেষ হয়েছে নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে এবার ২ দফা নির্বাচন হয়েছে, গতকালই শেষ হয়েছে ভোট। রেজাল্ট বেরোবে ৪ তারিখ। তবে তার আগেও যেন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি। দফায় দফায় সামনে চলে আসছে বিভিন্ন বিক্ষোভের খবর। তবে এবার একেবারে খাস কলকাতার বুকে বিক্ষোভ! নেতাজি ইনডোরে উত্তেজনা, তৃণমূল বিজেপির মধ্যে স্লোগান যুদ্ধে উত্তপ্ত হল পরিস্থিতি। তৃণমূলের নেতানেত্রী থেকে শুরু করে, বিজেপি নেতা, কর্মী সমর্থকেরাও হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, স্ট্রং রুমে ঢুকেছে বহিরাগতরা! আর এবার, সেই অভিযোগই খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন!

কী অভিযোগ তৃণমূলের? কেন ছড়াল উত্তেজনা?

আজ সন্ধেয় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে ধর্নায় বসেন, কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা সহ একাধিক তৃণমূল নেত্রীবৃন্দ। কিন্তু কেন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র? এই জায়গাটি উত্তর কলকাতার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং-রুম। এখানেই সংরক্ষিত হয়েছে EVM। কিন্তু সন্ধের দিকে তৃণমূলের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয় একটি ভিডিও। অভিযোগ আনা হয়, ভিতরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে EVM। সেখানে প্রবেশ করছেন বহিরাগতরা। ফলে EVM-এর নিরাপত্তার দাবি তুলে ওই স্ট্রংরুমের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। বৃষ্টির মধ্যেই চলতে থাকে এই ধর্না। এরপরে তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক এলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নেতানেত্রীদের সঙ্গে আসেন বেশ কিছু কর্মীরাও। শুরু হয় বাকযুদ্ধ। তাপস রায় অভিযোগ করেন, এভাবে স্ট্রংরুমের বাইরে, এত লোক নিয়ে জমায়েত করা অনুচিত। তৃণমূল যদি সেই নিয়ম না মেলে স্ট্রংরুমের বাইরে এভাবে জমায়েত করে, তাহলে বিজেপি ও সমান সংখ্যক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে স্ট্রংরুমের বাইরে জমায়েত করবে। এরপরেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। জমায়েত সরিয়ে দেওয়া হয়। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। সমস্ত দলের কর্মী সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা। 

কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

তৃণমূলের তরফ থেকে যে ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, সেই জল্পনা উড়িয়ে দিন নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করল নির্বাচন কমিশন। এদিন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ‘রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতেই স্ট্রং রুম সিল করা হয়েছে। পাশের ঘরে পোস্টাল ব্যালট ভাগ হচ্ছিল। সাধারণত জেলায় জেলায় সেগুলি চলে যায়। চাইলে সে সসময় উপস্থিত থাকতে পারেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম রয়েছে। সব প্রার্থী, এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকের সামনে স্ট্রং রুম সিল করা হয়েছে। আজ সকাল ৫.১৫-তে শেষ স্ট্রং রুম সিল করা হয়। স্ট্রং রুমে থাকা সমস্ত EVM সুরক্ষিত ও সিল করা আছে। ওই একই জায়গায় পোস্টাল ব্যালট রাখার জন্য আরেকটি স্ট্রং রুম আছে। এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে ইমেল করে জানিয়েছিলেন RO।’

Previous post

Bengal Election: তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা খারিজ! ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিযুক্ত করা ভুল নয়, কমিশনের সিদ্ধান্তে সায় দিয়ে জানাল হাইকোর্ট

Next post

ফের আকাশছোঁয়া দাম হবে সোনার ? সতর্ক করছেন মার্কেট এক্সপার্টরা, কত রেট হবে ?

Post Comment

You May Have Missed