সোনা পাপ্পুর মামলায় নয়া মোড়! উদ্ধার ১০ লক্ষ টাকা ও এই সব গুরুত্বপূর্ণ নথি

সোনা পাপ্পুর মামলায় নয়া মোড়! উদ্ধার ১০ লক্ষ টাকা ও এই সব গুরুত্বপূর্ণ নথি

কলকাতা : ভোটের মধ্যেও ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)! রেশন দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে গত শনিবার, অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল সাতসকালে একসঙ্গে ৯ জায়গায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সোমবার ফের এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইডি জানিয়েছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা এবং সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কিছু সন্দেহজনক নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। 

বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলায় আনন্দপুর ও আলিপুরে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির তল্লাশিতে উদ্ধার হয় ১০ লক্ষ নগদ টাকা, সোনার গয়না। ইডি তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল ডিভাইসও। উদ্ধার হওয়া নথি থেকে বিশাল টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনটা দাবি ইডির। গত রবিবার সোনা পাপ্পুর মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ ২ ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। আনন্দপুর ও আলিপুরে ব্য়বসায়ী কল্য়াণ শুক্লা ও সঞ্জয় কানোরিয়ার ঠিকানায় এই অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। 

মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। তল্লাশি চললেও কোথায় লুকিয়ে আছেন কেউ জানে না এখনও। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে ইডির হেফাজতে রাখা হয়েছে। সোমবারের বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে কামদারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই দুই জনের মধ্যে মোটা টাকার লেনদেনও হয়েছে। বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে হাওয়ালা লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন মানুষদের সঙ্গে টাকা লেনদেনের হদিশও পাওয়া গেছে, এমনই দাবি তদন্তকারী সংস্থার। 

উল্লেখ্য, সোনা পাপ্পুর মামলার সূত্র ধরে খোঁজ মেলে রেসনদুর্নীতির কথাও। গত শনিবার হাবড়া-সহ মোট ৯ জন ব্যবসীয়র বাড়িতে হানা ও  তদন্ত চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এছাড়াও একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস সহ মোট ১৭ টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। 

রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে এর আগেও রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি ও সিবিআই। রেশনের সামগ্রী খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা, কালোবাজারি করা ও প্রচুর পরিমাণ আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে এই মামলায়। ব্যবসায়ীরা চাল কোথা থেকে কিনতেন, সরকারকে সেই চাল কী দামে সরবরাহ করা হতো, এর নেপথ্যে কোন কোন প্রভাবশালী রয়েছেন, এই যোগসূত্র খুঁজতেই তদন্তকারীরা তদন্ত শুরু করে।

Post Comment

You May Have Missed