‘৪ মে-র পর…’, বড় মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর…
সোমনাথ মিত্র, রানা দাস, ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ‘এই নির্মম সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’ কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত প্রসঙ্গে এভাবেই তৃণমূলকে নিশানা করলেন নরেন্দ্র মোদি। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। দুর্নীতি ইস্যুতেও একের অন্যের দিকে সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি।
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ৮ জানুয়ারি, আই প্যাকের অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ED-র অভিযান, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌঁছে যাওয়া, ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসা, তা নিয়ে আদালতে মামলা, মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন। বিধানসভা ভোটের আবহে যখন এসব নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি, এই অবস্থায় গতকাল IPAC-এর নাম না করে, তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তদন্তে বাধা দিয়ে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুললেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নির্মম সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূলকে একটা জোর থাপ্পড় মেরেছে। আপনারা দেখেছেন তৃণমূলের সরকার তদন্তে বাধা তৈরি করছিল। আদালত এই ধরনের কাজকে গণতন্ত্রের জন্য বিপদ বলে উল্লেখ করেছে।”
শুধু কলকাতায় I-Pac-এর অফিসে অভিযান নয়। সম্প্রতি ED-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC এর ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল। আচমকা I-PAC-এর কর্মীদের ২০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র দেখতে পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভোটের সময় প্রচার করতে আটকাচ্ছো আমাদের লোকদের, আমাদের একটাই মাত্র এজেন্সি, তোমাদের হাজারটা সারা ভারতবর্ষ জুড়ে, তাদের পর্যন্ত বলেছো বাংলা ছেড়ে চলে যাও, লজ্জা করে না?”
আর এবার সেই I-Pac ইস্যুতেই আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদি। যার পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “যদি সত্যি কেউ দোষ করে থাকে, ভারতীয় দণ্ডবিধির মাধ্যমে তাঁকে শাস্তি দিন। যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তদন্ত করছে, তারা কাজের কাজটা কী করছে ? এতদিন ধরে হচ্ছে তদন্ত। কোনও রকম কোনও কিছু তো আদালতে নিয়ে গিয়ে…কই ?”
দুর্নীতি ইস্যুতেও এদিন ফের তৃণমূলকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “৪ মে-র পর তৃণমূলের সব গুন্ডা, সব অত্যাচারী, সব দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসাব হবে। পুরো হিসাব হবে। খুঁজে খুঁজে হিসাব হবে। তৃণমূলের দুর্নীতির সূর্যাস্ত হয়ে গেছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়িয়ে বলেছেন, “পাড়ায় তাকিয়ে দেখুন কোনও ভাল লোক, ভদ্র লোক, শিক্ষিত লোক, সভ্য লোক, মার্জিত লোক, প্রকৃত বাঙালি বিজেপি করে না। যত চোর, চিটিংবাজ, দু’নম্বরি, গাঁজাখোর, পাতাখোর, ভুঁইফোঁড়, বেইমান, চোর, ধর্ষক, মাতাল, মদ্যপ সব বিজেপিতে। এই হচ্ছে বিজেপির আসল চেহারা।”
২ দিন পরই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে I-Pac মামলার শুনানি হওয়ার কথা।



Post Comment