অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যুর পর বাতিল হয়ে যায় চেক, কিন্তু ডিমান্ড ড্রাফট ‘বৈধ’ থাকে! পুরো নিয়ম জেনে নিন

অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যুর পর বাতিল হয়ে যায় চেক, কিন্তু ডিমান্ড ড্রাফট ‘বৈধ’ থাকে! পুরো নিয়ম জেনে নিন

Last Updated:

অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যুর পর কেন চেক বাতিল হয়ে যায় কিন্তু ডিমান্ড ড্রাফট বৈধ থাকে? সহজ ভাষায় জেনে নিন পুরো ব্যাঙ্কিং নিয়ম ও পার্থক্য।

মৃত্যুর পর চেক বাতিল হলেও ডিমান্ড ড্রাফট কেন বৈধ থাকে?
মৃত্যুর পর চেক বাতিল হলেও ডিমান্ড ড্রাফট কেন বৈধ থাকে?

সাধারণত মানুষ মনে করেন যে কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সমস্ত ব্যাঙ্কিং লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত টাকা তোলা যায় না। এই কারণেই অধিকাংশ মানুষ চেক, নগদ বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারকে একইভাবে দেখে এবং ধরে নেন যে সব মাধ্যমের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মধ্যে এমন কিছু নিয়ম রয়েছে যা সাধারণ ধারণার থেকে একেবারেই আলাদা এবং যেগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকলে মানুষ প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

আসলে চেক এবং ডিমান্ড ড্রাফটকে মানুষ প্রায়ই একই জিনিস বলে মনে করেন, যদিও মৃত্যুর পর এই দুটির কার্যকারিতা একেবারেই আলাদা। যেখানে চেক তাৎক্ষণিকভাবে অকার্যকর হয়ে যায়, সেখানে ডিমান্ড ড্রাফট এক ধরনের বৈধ নথি হিসেবে থেকে যায় এবং ব্যাঙ্ককে যে কোনও পরিস্থিতিতেই তার অর্থ প্রদান করতে হয়।

ডিমান্ড ড্রাফটকে ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধরা হয়। যখন আপনি ডিডি (Demand Draft) তৈরি করেন, তখন সেই মুহূর্তেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয় এবং সেটি ব্যাঙ্কের দায়িত্বে চলে যায়। এর মানে হল, এখন ব্যাঙ্ক সেই ব্যক্তিকে টাকা দিতে বাধ্য, যার নামে ডিডি ইস্যু করা হয়েছে। তাই ডিডি কেনা ব্যক্তির মৃত্যু হলেও ব্যাঙ্ক সেই পেমেন্ট বন্ধ করতে পারে না।

চেকে কেন পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যায় ?

চেক এবং ডিমান্ড ড্রাফটের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই। চেকের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে যায় এবং ব্যাঙ্ক শুধু একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যদি চেক ইস্যু করা ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং ব্যাঙ্ক সেই তথ্য জানতে পারে, তাহলে ব্যাঙ্ক সঙ্গে সঙ্গে সেই চেকের পেমেন্ট বন্ধ করে দেয়। এরপর টাকা তোলার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যেমন succession certificate জমা দিতে হয়।

ডিডি (Demand Draft) বাতিল করতে হলে কী করবেন ?

অনেক সময় এমন হয় যে ডিডি যাঁর নামে তৈরি করা হয়েছে, তাঁর কাছে সেটি পৌঁছায় না। এই অবস্থায় যদি ডিডি ইস্যু করা ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। এমন ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকারীরা ব্যাঙ্কে গিয়ে ডিডি বাতিল করাতে পারেন। এর জন্য তাদের ডেথ সার্টিফিকেট, উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কাগজপত্র বা ইন্ডেমনিটি বন্ড জমা দিতে হয়। এরপর ব্যাঙ্ক সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয়।

ডিডিও (Demand Draft) সবসময় বৈধ থাকে না ?

যদিও ডিমান্ড ড্রাফটকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয়, তবে এরও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সাধারণত ডিডি ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত এটি বৈধ থাকে। এই সময়ের মধ্যে যদি পেমেন্ট না নেওয়া হয়, তাহলে ডিডি ‘স্টেল’ (Stale) হয়ে যায় এবং সেটিকে আবার বৈধ করাতে হয়।

Previous post

ভোট দিতে ট্রেনে চড়ে দলে দলে রাজ্যে আসছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, বিভিন্ন রেল স্টেশনে একই ছবি

Next post

বিচারাধীনদের মধ্যে আগামীকাল কারা ভোট দিতে পারবেন? ভোররাতে তালিকা দিয়ে স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন

Post Comment

You May Have Missed