‘আমরা মাছ-মাংস, ভাত সবই খাচ্ছি’, রাজ্যে প্রচারে এসে কাঁটা বেছে মাছ-ভাত খেলেন অনুরাগ ঠাকুর

‘আমরা মাছ-মাংস, ভাত সবই খাচ্ছি’, রাজ্যে প্রচারে এসে কাঁটা বেছে মাছ-ভাত খেলেন অনুরাগ ঠাকুর

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতিতে এবার বড় ফ্যাক্টর বাঙালির সাধের মাছ। শাসক দলের অভিযোগ, বিজেপি এ রাজ্যে এলে বাঙালির ‘মাছা-ভাতে’ থাকা সুখের জীবনের বারোটা বেজে যাবে। অন্যদিকে, বিজেপি বলছে মাছ নিয়ে তৃণমূলের এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা, ভিত্তিহীন। ভোটপ্রচারের বাজারে মাছ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। ঘোলাজলে মাছ ধরার কথা, যতই ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহৃত হোক, সেই মাছকে হাতিয়ার করেই ভোট টানতে চায় শাসক থেকে বিরোধী। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, অন্য়দিকে প্রচারে মাছ নিয়ে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে উঠেপড়ে নেমেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতি এখন মৎস্যময়। 

ঝাড়গ্রামে ভোটের প্রচারের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ঝালমুড়ি খাওয়ায়, পাল্টা মাছ খাওয়ার চ্য়ালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, ‘ঝালমুড়ি খাচ্ছে। মাছ খেয়ে একটু দেখান দেখি।’ এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে মাছ খেলেন। নিউটাউনের হোটেলে ভাতের সঙ্গে নিজের হাতে কাঁটা বেছে খেলেন রুই মাছ। সংবাদ সংস্থা এএনআই- কে অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, ‘আমরা মাংস, মাছ এবং ভাত সব খাচ্ছি। ১৬টি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে, ২০টি রাজ্যে NDA-র সরকার রয়েছে; কোথাও কারও বাকস্বাধীনতা, খাদ্যাভ্যাস কিংবা পূজার ওপর কোনও বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে কোনও সাফল্যই নেই। তাই তিনি এখন ভয়ভীতি ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং গুজব রটানোর আশ্রয় নিচ্ছেন।’ 

এর আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্যে এসে বলেন, ‘ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।’ পয়লা বৈশাখের দিন স্মৃতি ইরানিকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের তরফ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘আপনাকে একটাই কথা বলতে পারি দিদি, ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।’ 

কথায় বলে, মৎস মারিব খাইব সুখে। কিন্তু বাঙালি জীবনে মাছ নিছক খাদ্য নয়। বাঙালির ঘরে ধর্মীয় আচার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৎস্য অবতারের মাধ্যমে হিন্দু পুরাণে রক্ষা, পুনর্জন্ম ও ধর্মের বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে মাছ। সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য ও প্রাচুর্যের প্রতীক মাছ। ভোটপ্রচারেও তার জোরদার উপস্থিতি। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, অন্য়দিকে প্রচারে মাছ নিয়ে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে উঠেপড়ে নেমেছে বিজেপিও। মাছ হাতে প্রচারে বেরিয়েছেন বিজেপির প্রার্থীরা। ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী এবং বিধাননগরের প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে মাছ হাতে ভোটপ্রচার করতে দেখা গিয়েছে। 

পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। সম্প্রতি বাঁশদ্রোণীতে একটি সংগঠনের তরফে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রার ব্যানারে লেখা ছিল, মাছে-ভাতে বাঙালি। মাছ হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় পা মেলান অংশগ্রহণকারীরা। উপস্থিত ছিলেন টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। 

Previous post

PNB Recruitment: একাধিক শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করবে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, আজ থেকেই আবেদন করতে পারবেন

Next post

Arrest Warrent Against Srijato: শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ভোটের আগেই কবিকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ

Post Comment

You May Have Missed