ভোটের ২ দিন আগে খুন সিপিএম কর্মী, দলীয় প্রচারে গিয়ে ‘নিখোঁজ’ ! অপহরণ করে মেরে ফেলার অভিযোগ

ভোটের ২ দিন আগে খুন সিপিএম কর্মী, দলীয় প্রচারে গিয়ে ‘নিখোঁজ’ ! অপহরণ করে মেরে ফেলার অভিযোগ

উত্তর দিনাজপুর, ইসলামপুর : ভোট এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই খুনের খবর পাওয়া গেল ইসলামপুর থেকে। ভোটের ২দিন আগে ইসলামপুরে সিপিএম কর্মী খুন হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, দলীয় প্রচারে যোগ দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ওই সিপিএম কর্মী। নেহালপুরের নুর আজমকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ উঠছে ভোটের মাত্র ২ দিন আগে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইসলামপুরের তৃণমূলের নেতা জাভেদ আখতার বলছেন, ‘এটা নিন্দাজনক কাজ। এর থেকে দুঃখজনক কী হতে পারে। ব্যক্তিগত সমস্যা হলে বসে সমাধান করা যেত। ওর বাবারা সিপিএম করত। বাচ্চাগুলো টিএমসি করত। নমিনেশনে গিয়েছিল, যেতে পারে, সিপিএমের প্রার্থী ওর বাড়ির পাশের… আত্মীয় আছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। যে এ কাজ করেছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। এমন লোক কোনও দলে থাকে না… আমি ওদিকে যাচ্ছি না…।’ 

পশ্চিমবঙ্গে এবার বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে ২ দফায়। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। প্রথম দফাতেই ভোট রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে। আর তার মাত্র ২ দিন আগেই সেখানে সিপিএম কর্মী খুন হয়েছেন বলে খবর। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে এই খুনের ঘটনায় বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। অভিযোগ তোলা হয়েছে, এটা ‘রাজনৈতিক খুন’। মৃতের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, নুর আজম বাড়িতে ফিরছিলেন সম্ভবত। বাড়ি ফেরার সময়ে তিনি নাকি অনেকের কাছে ‘বাঁচাও, বাঁচাও, আমায় মেরে দেবে’ বলে সাহায্য চেয়েছিলেন। ‘১০০ নম্বরে ফোন করো’, এমনটাও নাকি বলেছিলেন নুর আজম নামের ওই সিপিএম কর্মী। মৃতের আত্মীয়ের কথায় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান ওই ব্যক্তি। কীভাবে সিপিএম কর্মীর মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, নুর আজমকে অপহরণ করে খুন করেছে তৃণমূল। ‘বামফ্রন্টের ঝান্ডা ধরায় থ্রেট করা হয়েছিল নুর আজমকে’, এমন অভিযোগও উঠছে। দলীয় প্রচারে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আর কোনও খোঁজ মিলছিল না নুর আজমের, এমনটাই জানা যাচ্ছে। 

তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকে বলেছেন, বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করা হবে। বিচার না পেলে চলবে বিক্ষোভ, অবরোধ। নুর আলম নামে স্থানীয় এক তৃণমূলকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইসলামপুরের সিপিএম প্রার্থী সামি খান বলছেন, ‘আমার নমিনেশনে গিয়েছিল নুর আজম। তারপর হঠাৎ অফ হয়ে যায়। আমি মেসেজ করেছিলাম যে। কী ভাই-কমরেড এই অবস্থায় তুমি অফ হয়ে গেলে? এটা তো ঠিক না… একটা আবেগ। তারপর বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি যে ওর উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ আজ জানতে পারি যে… কে ওকে নিয়ে গেল, কেন ও ওভার এক্সাইটেড হয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করলে, নুর আলমের সঙ্গে ওর কী ঝামেলা ছিল, নুর আলম ওকে কেন নিয়ে গেল… পুলিশ তদন্ত করুক। আমরা বলব পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’ 

Post Comment

You May Have Missed