রিঙ্কু যখন সিংহ! প্রাণ ফিরে পেয়ে জীবন দিলেন কেকেআরকে, ইডেনে নাইটদের রাত

রিঙ্কু যখন সিংহ! প্রাণ ফিরে পেয়ে জীবন দিলেন কেকেআরকে, ইডেনে নাইটদের রাত

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রবীন্দ্র জাডেজার বলে নান্দ্রে বার্গার যখন উইকেটের পিছনে লোপ্পা ক্যাচ ফেললেন, রিঙ্কু সিংহের স্কোর মোটে ৮! রিঙ্কু কি রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটারকে সেই স্টিভ ওয়র অমর উক্তি মনে করিয়ে দিলেন? বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তির ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন হার্শেল গিবস। স্টিভ ওয় গিবসকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপটাই হাত থেকে ফেলে দিলে!

কাকতালীয় হলেও, রিঙ্কুর ক্যাচও ফেললেন দক্ষিণ আফ্রিকারই এক ক্রিকেটার। বার্গার যেন ক্যাচ নয়, ম্যাচও ছেড়ে দিলেন। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১ ওভারে ৭৩/৬ হয়ে যেতে পারত কেকেআর। নাইটদের স্বপ্নেরও তখনই দফারফা হয়ে যেত।

কিন্তু ক্রিকেট ঈশ্বর যেন অন্য কোনও চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন রবিবারের ম্যাচের জন্য। তা নাহলে কার্যত হেরে যাওয়া ম্যাচ এভাবে জিতিয়ে দিতেন রিঙ্কু! এবারের আইপিএলে যাঁকে সহ অধিনায়ক করেছে কেকেআর। বাড়তি দায়িত্ব পেলেও, ব্যাট হাতে দারুণ কিছু করতে পারছিলেন না উত্তর প্রদেশের ক্রিকেটার। তিনি নিজেও যেন ভালই উপলব্ধি করেছিলেন। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে শনিবার বিকেলে কলকাতায় ফিরেই কালীঘাটে ছুটেছিলেন রিঙ্কু। পুজো দেন। নিজে হাতে আরতিও করেন। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়েই যেন নিজের মেজাজে ফিরলেন ইডেনে। ম্যাচ জেতালেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে।

চলতি আইপিএলে নাইটদের প্রথম জয়। প্রথম কোনও ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫৫ তাড়া করতে নেমে ৮৫/৬ হয়ে যাওয়া দলকে দিশা দেখালেন রিঙ্কু ও অনুকূল। ২ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতল কেকেআর

ম্যাচের পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ। প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান ১০ ওভারের শেষে ৯৫/১ তুলে ফেলেছিল। বলাবলি শুরু হয়ে যায়, দুশো পেরিয়ে যাবে রাজস্থান। বৈভব সূর্যবংশীকে দেখার জন্য মাঠ ভরিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২৮ বলে ৪৬ রান করে জ্বলে উঠেছিল ১৫ বছরের বিস্ময় ক্রিকেটার।

তবে মোড় ঘুরে গেল রাজস্থান ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে। যেখানে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬০ রান তুলতেও হিমশিম খেল রাজস্থান। সেই সঙ্গে হারাতে হল আরও ৮ উইকেট। দুই ওপেনার ফিরতেই তাল কাটল রাজস্থান ইনিংসের। সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণিজালে বাঁধা পড়ল রাজস্থান। রবিবারের ম্যাচ যেন বরুণের পুনর্জন্মের ম্যাচ। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে নিলেন তিন উইকেট। টি-২০ ক্রিকেটে দুশো উইকেট হয়ে গেল তাঁর। তিনিই ম্যাচের সেরা।

ইডেনের পিচে বল পড়ে ঘুরল, থমকাল। চ্যাটচ্যাটে পিচ যেন। নারাইনও সেখানে  বিপজ্জনক হয়ে উঠলেন। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। কেকেআরের পেসার কার্তিক ত্যাগী ৪ ওভারে ২২ রানে নিলেন তিন উইকেট। তিনটি উইকেটই একই ওভারে। তবে এই পিচেও অনুকূলকে এক ওভারও বল না করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠল।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় নাইটদের। প্রথম বলেই টিম সেইফার্টের স্টাম্প ছিটকে দিলেন জোফ্রা আর্চার। অজিঙ্ক রাহানে ০। ক্যামেরন গ্রিন ভাল শুরু করলেও ১৩ বলে ২৭ রান করে ফিরলেন। ১৩.৩ ওভারে ৮৫/৬ হয়ে যাওয়া কেকেআরের অতি বড় সমর্থকও ভাবেননি যে, এখান থেকে ম্যাচ জেতা সম্ভব।

তবে হাল ছাড়েননি রিঙ্কু ও অনূকল। অবিচ্ছেদ্য সপ্তম উইকেটে ৩৭ বলে ৭৬ রান যোগ করে ম্যাচ বার করে দিলেন দুজনে।

Previous post

অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কিনতে যাচ্ছেন ? এই ৫ উপায়ে সহজেই চিনে নিন কোনটা আসল আর কোনটা নকল সোনা !

Next post

Mamata Banerjee: ‘আমাকে খুন করার চক্রান্ত’! ‘রেইড’ নিয়ে বিজেপিকে তুমুল তোপ মমতার, তুললেন মারাত্মক অভিযোগ

Post Comment

You May Have Missed