Money Making Tips: রুগ্ন স্বামী, চলে যায় চাকরিও! কঠিন সময়ে হাল ধরেন স্ত্রী, হেসেখেলে কোন উপায়ে সংসার চালাচ্ছেন গৃহবধূ? জানুন
Last Updated:
Inspirational Story: স্বামীর চাকরি যাওয়ার পর রান্নার শখকে পেশা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পিউ আদক! এখন ভাতের হোটেল চালিয়ে শুধু নিজে নয়, কাজ দিচ্ছেন এলাকার মহিলাদেরও। রান্নার প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন তিনি। চালাচ্ছেন সংসার।
সৈকত শী, তমলুক: স্বামীর কাজ চলে যায়। সংসারের হাল ধরতে আসরে নামের স্ত্রী। প্রথম থেকেই ছিল রান্নার প্যাশন। আর সেই প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন ভাতের হোটেল। এখন সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন হোটেলটি। শুধু তাই নয় মেয়েদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে, হোটেলের স্টাফ থেকে রাঁধুনি সবই মহিলা। এই গৃহবধূ আসলে সত্যিকারের একজন অনুপ্রেরণাদায়ী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরের বাসিন্দা পিউ আদক। জন্ম আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারে। বিয়ে হয় তমলুক শহরের এক যুবকের সঙ্গে। তিনি কর্পোরেট হাউসে চাকরি করতেন। পরিবারে অভাব কি জিনিস ছিল না কোনদিনই। কিন্তু এই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হল না। কাজ হারান স্বামী। তখনই আসরে নামেন পিউ।
রান্না নিয়ে নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাটা একসময় ছিল একপ্রকার শখ। রান্না করার সেই প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে সংসারের হাল ধরে সফল হয়েছেন তমলুকের এই মহিলা। বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি সব জায়গায় আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু হঠাৎই ভাগ্যের পরিবর্তন। রোগে আক্রান্ত স্বামী হয়। তারপরেই স্বামীর স্বাস্থ্য ভঙ্গ। ওই মহিলার স্বামী কাজ করতেন একটি কর্পোরেট হাউসের সেলস বিভাগে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে বদলি হয়ে দুর্গাপুরে নতুন পোস্টিং হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ ছেড়ে দেন স্বামী। আর সেই সময়ই সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে আসেন ওই মহিলা।
বরাবরই তার হাতের রান্না খেয়ে বাড়ির লোক থেকে শুরু করে আত্মীয়রা প্রশংসায় ভরিয়ে তুলত। সেই হাতের জাদুকেই কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে মাঝামাঝি সময়ে তমলুকের মেয়ে পিউ রোজকার জীবনের বদলে শুরু করে অন্য এক জীবন। প্রথমে বাড়িতে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে খাওয়ার পৌঁছানো। পাঁচটা, দশটা থেকে শুরু করলেও বছর দুয়েকের মধ্যে সেটা মাঝেমধ্যে ৫০ টা পৌঁছে যায়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয় বাড়িতে নয়, এবার একটি দোকান ভাড়ায় নিয়ে এই ব্যবসাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার এবং আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার। তারপর থেকেই নানান প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়েই শুরু হয় লড়াই। অবশেষে সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে হলদিয়া মেছেদা রাজ্য সড়কের পাশেই শুরু হল নতুন খাবারের দোকান। যা বর্তমানে রমরমিয়ে চলছে।
এ বিষয়ে পিউ আদক জানান, “অন্যান্য সচ্ছল পরিবারের মতই রোজ দিন খাওয়া দাওয়া সবার সঙ্গে আড্ডা আনন্দ এইভাবে বেজায় কেটেছিল দিনগুলি। হঠাৎই স্বামীর অসুখ সবকিছুই শেষ হয়। শারীরিক কারণে কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। স্বামী অমিত আদক বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। যার জেরে সংসারে নেমে আসে অভাব অনটন।” পিউ আরও জানিয়েছেন বেশ কিছুদিন কষ্ট সৃষ্ট করেই চলছিল সংসার। অবশেষে অভাবের তাড়নায় শুরু হয় লড়াই। আর সেই লড়াইএ জয়ী হয়েছে কিছুটা নিজের হাতের রান্নার গুনে। রান্না করাটা শখ ছিল সেটাই বর্তমানে আবারও জীবনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রান্নাকে সঙ্গী করে পিউ এখন বর্তমানে একজন সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পিউর ভবিষ্যতের লক্ষ্য শুধু এই একটি নয় আরও কয়েকটি খাওয়ারের দোকান চালু করার। পিউর এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বামী অমিত আদকও!
Post Comment