Where Will Be Sonajhuri Haat: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট আর থাকবে না? পরিবেশ নাকি অন্য কিছু, বিতর্ক তুঙ্গে
Last Updated:
Where Will Be Sonajhuri Haat: বর্তমান বনভূমির ভিতরের হাটটিতে চলা বেআইনি দখলদারি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, সরকারি খতিয়ানভুক্ত জমিতে সুশৃঙ্খল স্টল বানিয়ে সেখানে হাটটি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিধায়ক।
বীরভূম: শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরি হাট নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন থাকা এই মামলা চলাকালীনই, লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা বনাঞ্চল থেকে হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জোরদার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমান বনভূমির ভিতরের হাটটিতে চলা বেআইনি দখলদারি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, সরকারি খতিয়ানভুক্ত জমিতে সুশৃঙ্খল স্টল বানিয়ে সেখানে হাটটি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিধায়ক।
বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হওয়া, যথেচ্ছ প্লাস্টিক ব্যবহার, বর্জ্য পদার্থের সমস্যা এবং অতিরিক্ত জনসমাগমের জেরে সোনাঝুরি হাটের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটিতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বনদফতর তাদের হলফনামা পেশ করলেও, গত এপ্রিল মাসের নির্ধারিত চূড়ান্ত শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে হাটের ভবিষ্যৎ।
শান্তিনিকেতনের এক হস্তশিল্প মেলায় যোগ দিয়ে লাভপুরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ওঝা স্পষ্ট জানান যে, বিচারাধীন এই বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান ফরেস্টের ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে পসরা সাজিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের থেকে জোর করে টাকা আদায় করছেন।
সরকারের নীতি মেনে এই ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রান্তিকের পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাটে অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভম আগারওয়ালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, অতীতে শুরু হওয়া এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি আজও বজায় রয়েছে, যেখানে একটিমাত্র পরিবারের কবজায় একাধিক দোকান থাকায় বহু বেকার যুবক ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই জট কাটাতে বনমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করে সরকারি উদ্যোগে নির্দিষ্ট জমিতে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর মতে, বেআইনিভাবে চলা এই হাট সরিয়ে নেওয়ার যে ভাবনা সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের এই হাটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পাল্টা দাবি, বন দফতরের সমস্ত নিয়ম ও বিধি মেনেই তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, তাই তাঁরা কোনোভাবেই হাট সরাতে বা বন্ধ করতে রাজি নন। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে মাত্র কয়েকজন আদিবাসী শিল্পীকে নিয়ে সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক দিনে শুরু হওয়া এই হাট আজ পরিধি বাড়িয়ে সপ্তাহে ছয় দিন প্রায় দুই হাজার ব্যবসায়ীর জীবিকার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, আইনি লড়াই এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কোন পথে মোড় নেয় সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ।
Souvik Roy

Post Comment