Dipanwita Kalipuja: বিপ্লবী মুকুন্দ দাসের হাত ধরে কাশী থেকে এসেছিল কষ্টিপাথরের মা! ১০০ বছরে পা দিল আনন্দময়ী কালীবাড়ির দীপান্বিতা কালীপুজো

Last Updated:

বিপ্লবী মুকুন্দ দাসের স্মৃতিবিজড়িত শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীবাড়ি পা দিল শতবর্ষে। কাশী থেকে আনা কষ্টিপাথরের মা কালীর মূর্তি, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ঘিরে বছরভর চলবে বিশেষ উদযাপন।

+

News18

শিলিগুড়ি: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে এবার এক বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীবাড়ি। এবছর শুধু দীপান্বিতা কালীপুজো নয়, শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে মন্দিরেরও। আর এই শতবর্ষের অন্যতম আকর্ষণ কাশী থেকে আনা কষ্টিপাথরের সেই কালীমূর্তি, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপ্লবী চারণকবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতি। একসময় যে মন্দির ছিল বিপ্লবীদের আনাগোনার অন্যতম আস্তানা, সেই মন্দিরেই এবার বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হতে চলেছে ১০০তম দীপান্বিতা কালীপুজো। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বছরব্যাপী শতবর্ষ উদযাপনের নানা কর্মসূচি।

মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিশেষ অধ্যায়। কথিত রয়েছে, বিপ্লবী চারণকবি মুকুন্দ দাস নিজে এই মন্দিরে এসেছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। সেই সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ তৎকালীন মন্দির কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা দিয়ে মন্দির নির্মাণের কাজ করা হয়। পাশাপাশি কাশী থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি নিয়ে আসার উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের আশপাশে আজকের মতো ঘন জনবসতি ছিল না। স্টেশনে নেমে বিপ্লবীরা এই মন্দিরে আশ্রয় নিতেন বলে জানা যায়। মাটির প্রতিমাকে কেন্দ্র করে সেই সময় এখানে লাঠিখেলা, ব্যায়ামসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আয়োজনও হতো। ফলে আনন্দময়ী কালীবাড়ি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবেই নয়, ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও পরিচিত।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মন্দিরের চেহারা, কিন্তু অটুট রয়েছে ঐতিহ্য। প্রায় ১৪ বছর আগে পুরনো মন্দির সরিয়ে নতুন করে মন্দির নির্মাণ করা হয়। তবে পুরনো বেদির মাটি সংরক্ষণ করে সেই একই বেদিতে পুনরায় মাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২০-২৫ বছর আগেই এই মন্দিরে বলিপ্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বলির পরিবর্তে আখ, শসা, চালকুমড়োসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিবেদন করা হয়। এবছর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মন্দিরের শতবর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি, যা চলবে আগামী বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আনন্দময়ী কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস জানান, এবছর মন্দির এবং দীপান্বিতা কালীপুজো—দুটিরই ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষ্যে সারা বছর ধরেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে শুরু হবে মায়ের পুজো। ভোগ নিবেদন ও ভোগ আরতি হবে রাত ১টা ৩০ মিনিটে। এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে পুষ্পাঞ্জলি, শান্তিজল প্রদান ও হোম। তাঁর কথায়, এবারের পুজোকে ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে থাকবে ব্যাপক আয়োজন এবং আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ৮ নভেম্বর রবিবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে ২২ কার্তিক অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত থাকবে অমাবস্যা তিথি। শতবর্ষের আবেগ, বিপ্লবী ইতিহাসের স্মৃতি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এবার আনন্দময়ী কালীবাড়ির দীপান্বিতা কালীপুজো ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উৎসাহ। একদিকে কাশী থেকে আসা শতবর্ষের কষ্টিপাথরের মূর্তি, অন্যদিকে বিপ্লবীদের স্মৃতিবিজড়িত মন্দির—সব মিলিয়ে এবারের কালীপুজো শিলিগুড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

ঋত্বিক ভট্টাচার্য

Post Comment

You May Have Missed