আমেরিকায় নির্বাচন, ভারতের লাভ কোথায়? কী প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি ও রফতানিতে?

কলকাতা: আমেরিকার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, এর একটা দীর্ঘ প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে বাণিজ্য, রফতানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডলার ও টাকার বিনিময়মূল্য এবং অপরিশোধিত তেলের দামের বেশ কিছু এদিক ওদিক হতে পারে। যে কারণে সুবিধা পেতে পারে ভারত। ভারতের স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকার বাণিজ্যনীতি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্থিতিশীলতা।

আরও পড়ুন: প্রস্তুতির সময় হারিয়েছেন বাবা ও মাকে, শোক সামলেও UPSC ক্র্যাক দীপাংশুর

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর, ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতি কার্যকর করা সহজ হতে পারে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা কোনও একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নজরদারি বাড়তে পারে এবং নতুন আইন পাশ করা কঠিন হতে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেই ট্রাম্পের শুল্কনীতি পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভারতের জন্য তাই দলীয় সমীকরণের চেয়ে বাণিজ্যনীতির ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট পণ্য রফতানির ২০.৭৫ শতাংশ। ফলে মার্কিন শুল্কনীতি বদলালে ভারতীয় রফতানিকারীদের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

শুল্কের অনিশ্চয়তা কমলে বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন শিল্প উপকৃত হতে পারে। পাশাপাশি আমেরিকান সংস্থাগুলির প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ কর্মীদের চলাচল সহজ হলে ভারতীয় IT ও পেশাদার পরিষেবা ক্ষেত্রেও সুযোগ বাড়তে পারে।

চিনের বাইরে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজতে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে ভারত আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। তবে তার জন্য উন্নত পরিকাঠামো, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং স্থিতিশীল নীতির প্রয়োজন। অন্যদিকে, আমেরিকায় ঋণ ও সুদের হার বাড়লে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাতে টাকার উপর চাপ এবং ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আজ রাতেই উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়, কতটা বৃষ্টি হবে আপনার জেলায়?

ভারতের পক্ষে সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি হবে এমন মার্কিন নীতিব্যবস্থা, যেখানে শুল্কের অনিশ্চয়তা কমবে, বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে এবং প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়বে। অর্থাৎ, নির্বাচনে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেল, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে ওয়াশিংটনের নীতিগত স্থিতিশীলতা।

Previous post

Inspirational Story: পড়ুয়াদের দেন শরীরচর্চার পাঠ, কাজেও করে দেখালেন তিনি! পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় সোনা জয় শিক্ষিকার

Next post

‘ডাকিনী বিদ্যা’ মানেই কি খারাপ? উত্তর খুঁজছেন ঋষভ-পায়েল! রইল ছবির এক্সক্লুসিভ লুক

Post Comment

You May Have Missed