Birbhum News: লবণ ব্যবসার হাত ধরে উত্থান, আজও ইতিহাসের সাক্ষী বীরভূমের ‘জমিদারদের গ্রাম’ কুণ্ডলার সর্বমঙ্গলা মন্দির উৎসব

Last Updated:

Birbhum News: লবণ ব্যবসার হাত ধরে উত্থান বীরভূমের ‘জমিদারদের গ্রাম’ কুণ্ডলার সর্বমঙ্গলা মন্দির ও তার ঐতিহ্য। আপনি বীরভূম ভ্রমণে এসে যদি এই গ্রাম ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই মন্দির একবার ঘুরে যান।

+

News18

বীরভূম, সৌভিক রায়: বীরভূম জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে কতশত অজানা ইতিহাস আর রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। সেই ইতিহাসের খোঁজে এবং শেকড়ের টানে বিভিন্ন সময়ে বহু মানুষ ছুটে এসেছেন বীরভূমের মাটিতে। এই জেলারই বুক চিরে বয়ে চলা সময়ের স্রোতে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক গ্রাম, যার স্থানীয় ইতিহাস শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। লবণ ব্যবসার হাত ধরে যে জনপদের গোড়াপত্তন হয়েছিল, কালক্রমে তা রূপ নেয় এক সমৃদ্ধশালী জমিদারপল্লীতে। জেলা তথা রাজ্যের অন্যান্য গ্রামে যেখানে সাধারণত এক বা দু’জন জমিদারের দাপট দেখা যেত, সেখানে বীরভূমের এই ‘কুণ্ডলা’ গ্রাম ছিল এক ব্যতিক্রমী ও বর্ণময় অধ্যায়।

এখানে একত্রে বসবাস করতেন বহু জমিদার। আর সেই কারণেই আজও এই জনপদকে গর্বের সঙ্গে ‘জমিদারদের গ্রাম’ বলে চেনেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রবীণদের বয়ান ও ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, কুণ্ডলা গ্রামের গোড়ার কথাটি বেশ রোমাঞ্চকর। একসময় এই অঞ্চলে বাণিজ্য শুরু হয়েছিল অত্যন্ত সাধারণ একটি উপাদান দিয়ে আর তা হলও লবণ ব্যবসা। সেই লবণ ব্যবসার কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বসতি, প্রথমে কাঁচা ঘরবাড়ি এবং সময়ের বিবর্তনে যা রূপান্তরিত হয় রাজকীয় পাকা বাড়িতে। জমিদারদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এই জনপদ।

আরও পড়ুন-ঘুমের মধ্যেই খিঁচুনি, মুহূর্তে সব শেষ! ৩৩-এ চলে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা, শোকস্তব্ধ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি

কালের নিয়মে জমিদারতন্ত্র আজ অতীত হলেও, তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যের নিদর্শন এবং ঐতিহ্য আজও টিকিয়ে রেখেছে কুণ্ডলার গৌরবময় অতীতকে। সেই প্রতাবশালী জমিদারদের হাত ধরেই এই কুণ্ডলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাগ্রত মা সর্বমঙ্গলা মন্দির। আজ শত প্রতিকূলতার মধ্যেও গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই ঐতিহাসিক মন্দির। সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও মায়ের প্রতি গ্রামবাসীর ভক্তি ও বিশ্বাসের বিন্দুমাত্র হেরফের হয়নি। প্রতিবছরের দ্বাদশীর দিনটি কুণ্ডলা গ্রামবাসীর কাছে এক বিশেষ পবিত্র দিন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মা সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরে এক বিরাট উৎসবের আয়োজন করা হয়। দেবীর পুজো-অর্চনার পাশাপাশি চলে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল মহাভোজ।

আরও পড়ুন-উল্কার গতিতে উত্থান, গায়ক থেকে মন্ত্রী, মমতার ঘনিষ্ঠ শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের পড়াশোনা কতদূর জানেন?

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের জন্য খিচুড়ি প্রসাদ-সহ বিভিন্ন সুস্বাদু পদের ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই প্রসাদ গ্রহণ করেন। মা সর্বমঙ্গলা দেবীর এই বার্ষিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে কেবল কুণ্ডলা গ্রামেই নয়, বরং বীরভূম জেলা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মনে এক আলাদা আবেগ কাজ করে। জানা যায়, এই মহা উৎসবে প্রতিবছরই নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন প্রাচীন জমিদার বংশের বহু উত্তরসূরি। স্মৃতির পাতায় আজও অম্লান বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি।

একসময় নিয়মিত এই মহোৎসবে যোগ দিতেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাট বিধানসভার পাঁচবারের জনপ্রিয় বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই কিছুদিন আগেই রামপুরহাটে তাঁর বাসভবনের সামনে দলীয় কার্যালয়ে আকস্মিক প্রয়াত হন তিনি। তবে তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অমায়িক ব্যবহার এবং এই উৎসবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সংযোগের স্মৃতি আজও কুণ্ডলাবাসীর মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে। মা সর্বমঙ্গলার কৃপা এবং জমিদার আমলের ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে কুণ্ডলা গ্রামের এই উৎসব আজও বীরভূমের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে বেঁচে রয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed