Inspirational Story: পড়ুয়াদের দেন শরীরচর্চার পাঠ, কাজেও করে দেখালেন তিনি! পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় সোনা জয় শিক্ষিকার

Last Updated:

Inspirational Story: সংসার ও শিক্ষকতার ব্যস্ততা সামলে তাক লাগালেন বাঁকুড়ার স্কুলশিক্ষিকা! ঝাড়খণ্ডের রাজ্যস্তরের পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় ১২০ কেজি ওজন তুলে সোনা জয় মুন্না পালের। তিনি বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।

+

পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় স্কুল শিক্ষিকার সোনা জয়

বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা তিনি। প্রতিদিন স্কুলে পড়ুয়াদের শারীরিক শিক্ষার পাঠ দেওয়া, বাড়ি ফিরে সংসারের দায়িত্ব সামলানো, সবই করেন সমান দক্ষতায়। কিন্তু এর বাইরেও তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি একজন বডি বিল্ডার। বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষিকা মুন্না পাল বাসুলি। শিক্ষকতা ও সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও শরীরচর্চার প্রতি ভালবাসা থেকে গত তিন-চার বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলন করে চলেছেন তিনি। আর সেই কঠোর পরিশ্রমেরই স্বীকৃতি মিলছে একের পর এক সাফল্যে। এবার ঝাড়খণ্ডের রাজ্যস্তরের পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে নজর কাড়লেন বাঁকুড়ার এই শিক্ষিকা।

গত ৩১ অক্টোবর জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘ঝাড়খণ্ড কেশরী বেঞ্চ প্রেস অ্যান্ড ডেডলিফট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। সেখানেই মাস্টার ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন মুন্না। ৬৯ কেজি ওজন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডেডলিফটিংয়ে ১২০ কেজি ওজন তোলেন তিনি। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোল্ড মেডেল এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। প্রতিযোগিতার মেরিট সার্টিফিকেটেও প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি রয়েছে। একজন স্কুলশিক্ষিকা হয়েও ভারী ওজন তোলার মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে নজরকাড়া।

আরও পড়ুন: উৎসবের মরসুমে টিকিটের হাহাকার অতীত, আরও স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের! কোন রূটে, কবে মিলবে জানুন

আসলে মুন্নার কাছে শরীরচর্চা শুধুমাত্র শখ নয়, বরং নিজেকে প্রমাণ করার একটা মাধ্যম। একসময় বডি বিল্ডিং নিয়ে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু শিক্ষকতার দায়িত্ব এবং সংসার সামলানোর ব্যস্ততায় সেই স্বপ্ন অনেকটাই পিছনে চলে যায়। তবুও হাল ছাড়েননি। প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি নিজের অনুশীলনের জন্য সময় বের করে নিয়েছেন। গত তিন-চার বছরের অধ্যবসায় তাঁকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। এর আগে বডি বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ওয়েট লিফটিংয়েও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ফলে ক্রীড়াক্ষেত্রে মুন্নার এই ধারাবাহিক সাফল্য এখন অন্য মহিলাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: রাস উৎসবে নামছে আধা সামরিক বাহিনী, চালু হচ্ছে আড়ং শোভাযাত্রা! নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি?

একদিকে স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে পড়ুয়াদের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাঠ দেন, অন্যদিকে নিজেই হয়ে উঠেছেন শরীরচর্চার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পেশাগত দায়িত্ব, সংসার এবং নিজের স্বপ্ন, তিনটি দিকই সামলে এগিয়ে চলেছেন মুন্না। আগামী দিনে আরও বড় কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। তবে সেই পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চান না। আপাতত তাঁর লক্ষ্য নিজের দক্ষতাকে আরও শানিত করা এবং আগামী দিনে আরও বড় প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করা। বাঁকুড়ার এই শিক্ষিকা যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে বয়স, পেশা কিংবা সংসারের দায়িত্ব কোনও কিছুই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

Post Comment

You May Have Missed