টাকার হঠাৎ প্রয়োজন হলে গোল্ড লোন নাকি পার্সোনাল লোন, আপনার জন্য কোনটা ভাল?

কলকাতা: বর্তমানে সব কিছুর খরচই বাড়ছে। আর এমন সময় চিকিৎসার জন্য বা অন্য কোনও জরুরি প্রয়োজনে হঠাৎ কারও টাকার দরকার পড়লে যে কোনও পরিবারই আতান্তরে পড়তে পারেন। কিন্তু হঠাৎ করে অনেক টাকা কীভাবে মিলবে, তার কোনও রূপরেখা কোথাও নেই। আর এমন সময় কোনও লোন নেওয়াই সব থেকে সহজ বলে মনে হয়। কিন্তু কী লোন নেওয়া যায় এমন অবস্থায়?

আরও পড়ুন: ইজরায়েলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারতের চিন্তা কোথায়? প্রতিরক্ষা থেকে তেল, প্রভাব পড়তে পারে একাধিক ক্ষেত্রে

এই অবস্থায় সাধারণত দুই ধরনের লোন নেওয়া যায়। একটি গোল্ড লোন। অন্যটি পার্সোনাল লোন। তবে এই দুই ধরনের লোনের খরচের ধরন বা লোন শোধ করার শর্ত ও ঝুঁকির মাত্রা আলাদা আলাদা। দুই ধরনের লোনের সুদের হার, প্রসেসিং ফি ও লোন শোধ করার ক্ষমতা, এই বিষয়গুলোর তুলনা করলে যে ব্যক্তি ঋণ নিতে চাইছেন, তিনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন ধরনের লোন তাঁর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সব থেকে উপযুক্ত।

গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি লোন নিচ্ছেন, তাঁর কাছে সোনার গয়না থাকা প্রয়োজন। নাহলে জামানত হিসাবে সোনার গয়না জমা রাখা যায় না। সাধারণত যে সংস্থা লোন দিয়ে থাকে, তারা সোনার গয়নার দাম যাচাই করে। তারপর তার জা দাম হয়, সেই দাম অনুযায়ী লোনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। সাধারণত যে সোনা জমা রাখা হয়েছে, তার ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ লোন হিসাবে পাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে, কেউ যদি পার্সোনাল লোন নিয়ে থাকেন, তাহলে তার সুদের হার সাধারণত গোল্ড লোনের থেকে বেশি হয়। কারণ, পার্সোনাল লোন হল একটি অসুরক্ষিত লোন। গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে সোনা জমা রাখা হয়। কিন্তু পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে কিছুই জমা রাখতে হয় না। বরং ক্রেডিট স্কোরের উপর নির্ভর করে লোনের সুদের হার বাড়ে বা কমে। এই ক্ষেত্রে সুদের হার সাধারণত ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকে।

যদি কারও হঠাৎ করে ১ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হয়। আর সেই টাকা তিনি ২ বছরের জন্য নিয়ে নেন। এবার গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার আমরা ধরতে পারি ১০ শতাংশ আর পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সেটাই আমরা ধরতে পারে ১৪ শতাংশ। আর এমন হলে গোল্ড লোনের EMI হবে ৪ হাজার ৬১৪ টাকা। মোট সুদ দিতে হবে ১০ হাজার ৭৪৮ টাকা। অন্যদিকে এই টাকা যদি পার্সোনাল লোন হিসাবে নেওয়া হয়, তাহলে EMI হবে ৪ হাজার ৮০১ টাকা। মোট সুদ হবে ১৫ হাজার ২৩১ টাকা। অর্থাৎ ১ লক্ষ টাকার লোনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ হাজার টাকা বেশি সুদ দিতে হয় পার্সোনাল লোনে।

আরও পড়ুন: বাড়িতে পড়াশোনা করেই ক্র্যাক বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা, সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট হলেন স্মৃতি

দুই সুদের ক্ষেত্রে দুই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে কেউ যদি লোন শোধ করতে না পারে তাহলে ওই সোনা সে আর ফেরত পায় না। কিন্তু পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে এই সমস্যা নেই। তবে পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় কাজে লাগে। যেমন যিনি লোন নিচ্ছেন, তাঁর উপার্জনের উৎস কী, তাঁর ক্রেডিট স্কোর কত, ইত্যাদি। আর এর উপর নির্ভর করে যে সংস্থা ঋণ দিচ্ছে, সে সুদের হার ধার্য করে। এবর সবটা দেখে নিয়ে যে লোন সস্তায় হয়, সেখানেই যাওয়া উচিত।

Previous post

Ata Payesh Recipe: ঘরোয়া চাল, সিমাইয়ের পায়েস নয়! বানিয়ে ফেলুন একেবারে অন্য স্বাদের আতার পায়েস, জমে যাবে ভাইফোঁটা

Next post

Life Certificate: রেলের পেনশনভোগীদের আর লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না! কী করতে হবে জেনে নিন

Post Comment

You May Have Missed