২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় সকাল সকাল ED অভিযান! উত্তরপাড়া-সহ চার জায়গায় তল্লাশি
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোহিনুর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ প্রতারণার অভিযোগের সূত্র ধরেই এই তদন্ত। লেকটাউন, হাওড়া ও উত্তরপাড়াসহ মোট চারটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন কোন নথি বা সামগ্রী তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
কী অভিযোগ রয়েছে কোহিনুর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে?
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে কোহিনুর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল অঙ্কের ব্যাঙ্ক ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থের গতিপথ এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা বলে জানা যাচ্ছে।
এই মামলায় অর্থ পাচারের সম্ভাব্য দিকটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়াও চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। সুদীপ্ত ঘোষ পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তাঁর বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র খতিয়ে দেখা এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে এই মামলায় সুদীপ্ত ঘোষের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী, তাঁর কাছে কোন ধরনের নথি বা তথ্য রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই।
কী বলছেন সুদীপ্ত ঘোষ?
তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলার সময় সুদীপ্ত ঘোষ জানান, তদন্তকারী আধিকারিকরা তদন্তের অনুমতি নিয়ে এসেছেন এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তাঁর বক্তব্য, এই তদন্তের সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ঠিক কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন তদন্তকারীরা ভিতরে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কী কী নথি পরীক্ষা করা হয়েছে বা কোনও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
চারটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লেকটাউন, হাওড়া ও উত্তরপাড়াসহ চারটি ঠিকানায় ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই ব্যাঙ্ক প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের নথি সংগ্রহ করা এবং অর্থের গতিপথ সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোহিনুর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ প্রতারণার তদন্তে কলকাতার ১১টি ঠিকানায় তল্লাশি করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য নেওয়া ঋণের অর্থ অন্য সংস্থায় সরিয়ে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল ইডি। সংস্থাটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর ঋণদাতারা সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৭ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পেরেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে ৩০ অক্টোবর উত্তরপাড়ায় সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে চলা তল্লাশি ওই আগের অভিযানের কোন নির্দিষ্ট পর্যায়ের অংশ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, ২৯০ কোটি টাকার এই ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ ঘিরে উত্তরপাড়ায় ইডির এই অভিযান নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর। তল্লাশির শেষে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় কি না, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় কি না এবং তদন্তের বিষয়ে ইডি কী জানায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
Post Comment