দাম ৪ হাজার টাকা! পাস কিনলে তবেই দুর্গাপুজো দেখার অনুমতি! ইন্দ্রনীলের ভয়াবহ দুর্নীতি প্রকাশ্যে
কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে, জালিয়াতির ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Former West Bengal minister Indranil Sen arrested)। প্রথমে কলকাতার ২৪টি পুজোকে বেছে নিত মাস আর্ট সংস্থা। তারপর দর্শকদের কাছে পাস বিক্রি করে প্রচুর টাকা তোলা হত।পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ঢুকেছে ইন্দ্রনীল সেন-এর অ্য়াকাউন্টে।
ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি!
কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ভাঙিয়ে, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে, রীতিমতো জালিয়াতির ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন তিনি। ৮ জুন বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এই ব্যক্তি। তাঁর দাবি, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি করে ‘মাস আর্ট’ নামে সংস্থা। যার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে, কীভাবে চলত এই দুর্নীতি?
প্রিভিউ শো-তে অংশগ্রহণের নামে পুজো কমিটিগুলো থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র নিত মাস আর্ট। এই প্রিভিউ শো-তে কী হত? প্রথমে ইউনেস্কোর নাম ব্য়বহার করে কলকাতার ২৪টি পুজোকে বেছে নেওয়া হত।মহালয়া থেকে চতুর্থী পর্যন্ত ওই মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখার সুযোগ পেতেন ‘মাস আর্টে’র থেকে পাস কেনা দর্শকরা। ওই সময় ‘মাস আর্ট’ নির্বাচিত ২৪টি পুজো মণ্ডপে সাধারণ দর্শককে ঢুকতে দেওয়া হত না। মণ্ডপের বাইরে কড়া পাহারায় থাকত ‘মাস আর্টে’র টিম। দর্শক এলে তাদের পাস স্ক্যান করে তবেই ঢুকতে দেওয়া হত মণ্ডপে। এভাবে দর্শকদের কাছে পাস বিক্রি করে প্রচুর টাকা তোলা হত।
চড়া দামে বিক্রি হত পাস, ভাগ ছিল বিভিন্ন!
মাস আর্ট কীভাবে চড়া দামে পাস বিক্রি করত, তদন্তে নেমে তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্লাটিনাম ফ্যামিলি কার্ডের দাম ছিল ৪ হাজার টাকা। এই ডোনার পাস দেখিয়ে দুর্গাপুজোর ৫ দিন নির্দিষ্ট মণ্ডপে ঢুকতে পারতেন- ২ জন পূর্ণ বয়স্ক, ২ শিশু, ও ২ জন সিনিয়র সিটিজেন। এর পরের ধাপে ছিল প্লাটিনাম কাপল কার্ড, যার দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা। গুণে গুণে আড়াই হাজার টাকা দিলে মিলত প্লাটিনাম সিঙ্গল কার্ড। সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত ‘গোল্ড ফ্যামিলি’ ডোনার পাস। এছাড়াও গোল্ড কাপল কার্ড, গোল্ড সিঙ্গল কার্ড, সিলভার ফ্যামিলি কার্ড, সিলভার কাপল কার্ডের মতো নানা পাস মোটা টাকায় বিক্রি করা হত।
শুধু পাস নয়, দুর্নীতি হত বিজ্ঞাপন নিয়েও!
বিজ্ঞাপন বাবদও মাস আর্ট কোটি কোটি টাকা তুলেছিল বলে অভিযোগ। বাছাই করা ২৪টি পুজো মণ্ডপকে মাস আর্টের তরফে দেওয়া হত LED গেট, যা মণ্ডপের বাইরে লাগাতে হত। সেখানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য একাধিক সংস্থার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হত। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইউনেস্কো কোনও কনফারেন্স, কর্মশালা বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানের জন্য কোনও ফি নেয় না। কোনও থার্ড পার্টিকে ইউনেস্কোর নাম, লোগো বা প্রতীক ব্যবহার করার কিংবা ইউনেস্কোর হয়ে অর্থ সংগ্রহ করার অনুমতিও দেওয়া হয় না। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি যাচাই করে নিন। অথচ সেই ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়েই দিনের পর দিন ইন্দ্রনীল সেন কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ।
তিন সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল
টিকিট দুর্নীতির পাশাপাশি উঠছে মারাত্মক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও! পুলিশ সূত্রে দাবি, বিভিন্ন ব্য়াঙ্কের নথি থেকে জানা গেছে, ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ঢুকেছে ইন্দ্রনীল সেন-এর অ্য়াকাউন্টে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্য়ায়ের দাবি, সেই সময় রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও পর্যটন দফতরের মন্ত্রী হিসেবে, ‘থার্ড লাইন ক্রিয়েশন’, ‘জিডি ক্রিয়েশন’ ও ‘রূপকার’ নামে এই তিন সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দেন ইন্দ্রনীল সেন। এই ৩ সংস্থার অন্যতম সদস্যরাই আবার ‘মাস আর্ট’- নামে সংস্থারও সদস্য।
Kunal ghosh: হামিদুলের বিরুদ্ধে খুলছে ফাইল? “MLAদের ভয় দেখিয়ে TMC থেকে দূরে রাখা হচ্ছে”, বললেন কুণাল
Post Comment