‘যুগ যুগ জিও’: জিওর শেয়ার বাজারে লিস্টিং উপলক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অনন্ত আম্বানির, বললেন— ‘আজ ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে প্রসাদ’
Last Updated:
মোবাইল, টেলিকম দুনিয়াতে বিপ্লব ঘটানোর পর এবার শেয়ার বাজার ও ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টেও অভিষেক হল Jio-র। বুধবার তালিকাভুক্তি হল জিও প্ল্যাটফর্মস। এই অনুষ্ঠানেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। তাঁর ছেলে অনন্ত ও মেয়ে ঈশা আম্বানি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাঁকে।
মুম্বই: ২৮ অক্টোবর, বুধবার জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানে অনন্ত আম্বানি এই টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থাকে সমর্থন করার জন্য কোটি কোটি ভারতীয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই সময় তিনি তাঁদের পরিবারের ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন। জিও প্ল্যাটফর্মসের ডিরেক্টর-বোর্ড সদস্য অনন্ত এই লিস্টিংয়ের অনুষ্ঠানে বলেন, “যুগ যুগ জিও। আজ এক্সচেঞ্জের ঘণ্টাধ্বনি আমার কাছে মন্দিরের ঘণ্টার মতো মনে হবে, কারণ আমার কাছে ব্যবসা হল পুজো, আর প্রতিটি পুজো প্রসাদ দিয়ে শেষ হয়। প্রসাদ সব সময় ভাগ করে নেওয়া হয়। আজ জিওকে ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আজ আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি দিয়ে শুরু করছি, কৃতজ্ঞতা।” জিওর উপর আস্থা রাখা এবং এই তালিকাভুক্তি সম্ভব করে তোলার জন্য তিনি কোটি কোটি মানুষকে ধন্যবাদ জানান। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ভাবনার কথা উল্লেখ করে অনন্ত আম্বানি তাঁর বাবা তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং ঠাকুরদা তথা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানির স্বপ্নের কথা স্মরণ করেন।
অনন্ত আম্বানি বলেন, “আমাদের বাবা মুকেশ ধীরুভাই আম্বানি একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, ভারত পিছিয়ে থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, ধীরুভাই আম্বানি দেখিয়েছিলেন যে একজন সাধারণ ভারতীয়ও অসাধারণ কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখতে পারেন। আম্বানি তাঁর পরিবার এবং জিওর কর্মীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমার ঠাকুরদার স্বপ্ন, আমার ঠাকুমার আশীর্বাদ, আমার বাবার পথনির্দেশ, আমার মায়ের যত্ন এবং বিনয়।”
তিনি জিওর মাঠপর্যায়ের কর্মী, বৃষ্টি ও গরমের মধ্যে কাজ করা প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, পরিষেবা কর্মী, স্টোরের কর্মী এবং খুচরো ব্যবসায়িক অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান। সংস্থার কর্মী ও অংশীদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই দিনটি আপনাদের।” তিনি ‘যুগ যুগ জিও’ বলে দেশজুড়ে মানুষের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া আশীর্বাদ ও উৎসাহের কথা স্মরণ করেন।
জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের বৃহত্তম আইপিও হয়ে ওঠার পর বিএসই এবং এনএসইতে লেনদেন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সময়ই এই কথাগুলি বলেন অনন্ত আম্বানি। সংস্থাটি আইপিওর শেয়ারপ্রতি মূল্য ১,১১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ স্তর। এর ফলে সংস্থার মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা। ২১ অক্টোবর এই পাবলিক ইস্যু খোলে এবং ২৩ অক্টোবর বন্ধ হয়।
এক্সচেঞ্জের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইপিওটি ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের জন্য বরাদ্দ অংশের ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। অন্যদিকে, খুচরো বিনিয়োগকারীদের বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ছিল ২.৭২ গুণ।
Disclaimer: Moneycontrol is a part of the Network18 group. Network18 is controlled by Independent Media Trust, of which Reliance Industries is the sole beneficiary.

Post Comment