‘পুরুষেরও কষ্ট হয়, আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না’, জুঁইয়ের পোস্টের পর মুখ খুললেন স্বরূপ বিশ্বাস

নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি বলে দাবি স্বরূপ বিশ্বাসের। কিন্তু তাঁর নীরবতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দুই মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন স্বরূপ। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে না হেঁটে তিনি আইনের মাধ্যমেই নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।

আদালতের নির্দেশে মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি, দাবি স্বরূপের:

স্বরূপ বিশ্বাসের দাবি, গত রবিবার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোর্ট কমিশনারের উপস্থিতিতে একটি শপিং মলে ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে অভিযোগ তাঁর।

কেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সাক্ষাৎ সম্পন্ন হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরূপ। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত জেদের নয়, বরং সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন।

জুঁইয়ের পোস্টের পর পাল্টা বক্তব্য:

সম্প্রতি জুঁই মজুমদার বিশ্বাস তাঁর বিবৃতি প্রকাশ করে বিচারাধীন বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের হেফাজত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা না করার আবেদন জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে কুণাল ঘোষের একটি রাজনৈতিক পোস্টে ‘এক নেতার ভ্রাতৃবধূ’ উল্লেখটি তাঁকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে বলে দাবি করেন জুঁই।

স্বরূপের বক্তব্য, গতকাল সন্ধ্যায় জুঁইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তাঁর নজরে আসে। সেখানে তাঁকে ‘Hooliganism’-এর সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই নিজের বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তিনি। তবে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চান না বলেও জানিয়েছেন স্বরূপ। তাঁর দাবি, কোনও অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ভিত্তিতে নয়।

দুই মেয়েকে নিয়ে উদ্বেগ, একাধিক অভিযোগ স্বরূপের:

নিজের দুই মেয়েকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরূপ। তাঁর অভিযোগ, বড় মেয়েকে শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে তাঁকে না জানিয়ে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি ও কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, ছোট মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের বিষয়েও আদালতের নির্দেশের যথাযথ বাস্তবায়ন দাবি করেছেন।

তবে সন্তানদের উপর কোনও রকম মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরূপ। তাঁর বক্তব্য, দুই মেয়ে যেন নিরাপদে, স্বাধীনভাবে এবং বাবা-মায়ের বিরোধের বোঝা ছাড়াই উভয়ের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পায়। সন্তানদের কোনও ব্যক্তিগত বিরোধের হাতিয়ার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গ্রেফতারি ও বিবাহবিচ্ছেদের মামলা নিয়ে প্রশ্ন:

নিজের বিবৃতিতে স্বরূপ বিশ্বাস কয়েকটি ঘটনার তারিখ উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ জুন তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৭ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর বক্তব্য, ১৭ জুন জুঁই মজুমদার বিশ্বাস বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন বলে তিনি পরে জানতে পারেন।

এ ছাড়াও বড় মেয়ের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁর কাছে নোটিশ পৌঁছেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বরূপ। তাঁর অভিযোগ, গ্রেফতারি, বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এবং সন্তানদের শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির সময়কাল একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গ্রেফতারির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

‘পুরুষেরও কষ্ট হয়’, বললেন স্বরূপ:

বিবৃতিতে স্বরূপ বিশ্বাস লিখেছেন, পুরুষেরও কষ্ট হয়, চোখে জল আসে এবং পুরুষও অন্যায়ের শিকার হতে পারেন। তাঁর মতে, কোনও ঘটনার বিচার নারী বা পুরুষের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, তথ্য, প্রমাণ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।

জুঁইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ বলে মনে করলেও সন্তানদের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও পিতৃত্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। একজন বাবা হিসেবে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, আদালতের নির্দেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং নিজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ন্যায্য সুযোগ চান।

বিবৃতির শেষে স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, কাউকে অপমান করা বা প্রতিশোধ নেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য নয়। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুই মেয়ের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি আইনি পথেই লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে সন্তানদের মঙ্গলকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।

উল্লেখ্য, স্বরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য ও অভিযোগ তাঁর প্রকাশিত বিবৃতির ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি বিচারাধীন থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed