Lakshmi Puja 2026: দুর্গাপুজো নয়, লক্ষ্মীপুজোতেই মাতোয়ারা বর্ধমানের এই এলাকা! ৫৩ বছরে এবারের থিম ‘বাউল কুটির’

Last Updated:

Lakshmi Puja 2026: পরিবেশবান্ধব মণ্ডপে বাংলার বাউল সংস্কৃতির ছোঁয়া, ৫৩ বছরে বাজেপ্রতাপপুরের তা-বাজারের লক্ষ্মীপুজো।

লক্ষ্মীপুজোতেই মাতোয়ারা বর্ধমানের এই এলাকা
লক্ষ্মীপুজোতেই মাতোয়ারা বর্ধমানের এই এলাকা

বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মতোই থিমের চমক, আলোর রোশনাই আর উৎসবের আমেজ। তবে দুর্গাপুজো নয়, লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই আনন্দে মেতে ওঠেন পূর্ব বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরের বাসিন্দারা। এখানকার তা-বাজার বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো এবার ৫৩ বছরে পদার্পণ করল। প্রতি বছর এই পুজোকে ঘিরে সাত দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা। আত্মীয়স্বজনদের সমাগমে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে প্রতিটি পরিবার। এবার পুজোর বিশেষ আকর্ষণ পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি ‘বাউল কুটির’ থিমের মণ্ডপ।

৫৩ বছরের ঐতিহ্য, মুড়ি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে শুরু পুজো

প্রায় ৫৩ বছর আগে ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি কামনায় তা-বাজার এলাকার হাতে ভাজা মুড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১২টি পরিবার একজোট হয়ে এই লক্ষ্মীপুজোর সূচনা করে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি, বেড়েছে মেশিনে তৈরি মুড়ির চাহিদা। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে নতুন প্রজন্মের অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। তবুও এই পুজোর ঐতিহ্য ও জৌলুসে কোনও ভাটা পড়েনি। বর্তমানে প্রায় ৪০টি পরিবার এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

এখনও এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ীরা নিয়মিত হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। তবে লক্ষ্মীপুজোর দিনগুলিতে মুড়ি ভাজার কাজ বন্ধ থাকে। বছরের এই বিশেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। আত্মীয়স্বজনদের আগমনে প্রতিটি বাড়িতে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।

এবারের থিম ‘বাউল কুটির’, গুরুত্ব পরিবেশবান্ধব সামগ্রীতে

বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে এ বছর তা-বাজার বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো কমিটির থিম ‘বাউল কুটির’। গ্রামবাংলার বাউল কুটিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে পুজোমণ্ডপ। মণ্ডপ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব সামগ্রী। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপ। এ বছরের পুজোর বাজেট প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

সাত দিন ধরে উৎসব, বসে গ্রামীণ মেলাও

তা-বাজারের এই লক্ষ্মীপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়, এলাকার মানুষের কাছে এটি মিলনোৎসবও। পুজো উপলক্ষে সাত দিন ধরে চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় অন্নকূটের এবং বসে গ্রামীণ মেলা। উৎসবের দিনগুলিতে আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। পুজো দেখতে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান বাজেপ্রতাপপুরে।

Saradindu/Sandip, Burdwan

Post Comment

You May Have Missed