বিপর্যয়ের ৬ দিন পর আজ চোরবাগানে প্রতিমা নিরঞ্জন, থিম পুজোয় ইতি চাইছেন বাসিন্দারা

দশমীর দিন নিয়মরক্ষার্থে ঘট বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় প্রতিমা স্পর্শ করার অনুমতি নেই কারও। তাই প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতিতেও মানা হচ্ছে নির্দিষ্ট নিয়ম।

সপ্তমীর রাতের মর্মান্তিক ঘটনার পরেও পুজোর চিরাচরিত রীতিনীতি বজায় রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন চোরবাগানের স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার শোক বুকে নিয়েও তাঁরা চেয়েছিলেন, নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হোক দুর্গাপুজো। এ বার আর থিমের জাঁকজমক নয়, বরং পুজোর ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানকেই প্রাধান্য দিতে চান তাঁরা। অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে দশমীর সিঁদুরখেলা—প্রতিটি রীতি যথাযথ ভাবে পালিত হোক, এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। থিমের আড়ম্বরে যেন পুজোর আসল আবেগ ও ঐতিহ্য চাপা না পড়ে, সেই বার্তাই উঠে আসছে চোরবাগানের বাসিন্দাদের কথায়।

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে রাজ্য। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর নেতৃত্বেই তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে সিট।

হাই কোর্টের বিচারপতি নিশীতা মাত্রের সঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চে বসে একাধিক রায় দিয়েছিলেন অনিন্দিতা। বর্তমানে তিনি রাজ্যের এসআইআর ট্রাইবুনালের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

‘কে দোষী, কাকে সাজা দেওয়া উচিত, দেখতে হবে’, বললেন অনিন্দিতা

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা বলেন, “দায়িত্ব তো সবই সদ্য পেয়েছি। সব কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারিনি। তবে আমাকে দেখতে হবে কে দোষী, কাকে সাজা দেওয়া উচিত। প্রাথমিক কাজ হচ্ছে সেটাই।”

তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অনিন্দিতার কথায়, “তার পর দেখতে হবে কী ভাবে প্রতিকার করা যায়। পরবর্তীকালে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টিও দেখা জরুরি।”

অর্থাৎ, চোরবাগান-কাণ্ডে কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকানোর পথ খুঁজে বের করাও সিটের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে। তিন মাসের মধ্যে জমা পড়ার কথা সেই তদন্তের রিপোর্ট।

Post Comment

You May Have Missed