কীভাবে চোরবাগানে বিপর্যয়…? তাঁরই নেতৃত্বে তদন্ত করবে SIT! কে এই অনিন্দিতা রায় সরস্বতী?

চোরবাগান দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল নিযুক্ত করল রাজ্য। গঠিত হয়েছে স্পেশাল তদন্তকারী দল। আগামী ৩ মাসের মধ্যে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে এই টিম।আর এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বেই বেছে নেওয়া হয়েছে এক মহিলাকে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। কী তাঁর পরিচয়? কেন তাঁকেই দেওয়া হল এমন গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্বের দায়ভার? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী

জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী রাজ্যের প্রথম মহিলা জেলা বিচারক যিনি হাইকোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হন৷ শুধু তাই নয়, নগর দেওয়ানি আদালতের মুখ্য বিচারক থেকে তিনি হন হাইকোর্টের জজ। কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা জজের দায়িত্বও একসময় সামলান অনিন্দিতা। হাইকোর্টের বিচারপতি নিশীতা মাত্রের সঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চে বসে একাধিক রায় দিয়েছেন তিনি। আর বর্তমানে রাজ্যে SIR ট্রাইবুনালের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁরই উপর ন্যস্ত হয়েছে চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তের নেতৃত্বের দায়িত্ব।

 সিট নির্দেশিকায় কী কী?

২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই SIT গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে তদন্তকারী দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে তাঁকে তদন্তের রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারের কাছে।

৬ সদস্যের তদন্ত কমিশনে কারা?

রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬ সদস্যের তদন্তকারী দলে থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের STF-এর ডিজি-আইজিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-এর একজন প্রতিনিধি।

চোরবাগানের ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কিনা, খতিয়ে দেখবে এই SIT। দুর্ঘটনার সময় আয়োজক, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, CCTV ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

মণ্ডপে পুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখবে দল। পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল-সহ সংশ্লিষ্ট কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলা কিংবা সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না, তা চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে SIT।

Post Comment

You May Have Missed