আপনার বেতন কত হলে, মাসে কত টাকার SIP করবেন? এর জন্য রয়েছে দারুণ একটা নিয়ম
কলকাতা: SIP বা Systematic Investment Plan দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। নিয়মিত নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময়ে চক্রবৃদ্ধি সুদের হারের সুবিধাও মিলতে পারে। তবে মাসিক বেতনের কতটা SIP-এ দেওয়া উচিত জানেন কি? এর যদিও কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আয়, খরচ, ঋণ, জরুরি সঞ্চয় এবং আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী এই পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
অনেক বিশেষজ্ঞই মাসিক বাজেট তৈরিতে ৫০-৩০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার কথা বলেন। অর্থাৎ আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ নিজের ইচ্ছা মতো খরচ ও বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখতে বলা হয় এই নিয়মে। তবে এই ২০ শতাংশ পুরোটা SIP-এ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপৎকালীন তহবিল ও ঋণ পরিশোধের জন্য যে খরচ, সেটাও এই ২০ শতাংশের মধ্যে আসতে পারে।
মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা হলে এই নিয়ম অনুযায়ী সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য প্রায় ৮ হাজার টাকা রাখা যেতে পারে। যদি কেউ রিস্ক একেবারে নিতে না চান তার জন্য ২ হাজার টাকা SIP ও জরুরি তহবিলে ৬ হাজার টাকা রাখা যেতে পারে। কেউ যদি এই ক্ষেত্রে একটা ব্যালান্সড অ্যাপ্রোচ চান, তাহলে ৪ হাজার টাকার SIP ও জরুরি তহবিল বাকি ৪ হাজার টাকা রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে, কেউ যদি বিনিয়োগ বেশি করতে চান, তাহলে ৬ হাজার টাকা SIP ও জরুরি তহবিলে ২ হাজার টাকা রাখতে হবে।
কারও মাসিক আয় যদি ৬০ হাজার টাকা হয় তাহলে ২০ শতাংশ হিসাবে প্রায় ১২ হাজার টাকা সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখা যেতে পারে। ব্যালান্সড পরিকল্পনায় ৪ হাজার টাকা SIP, ৪ হাজার টাকা জরুরি তহবিল এবং ৪ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধে রাখা যেতে পারে।
মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা হলে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে। বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক পরিকল্পনায় ১০ হাজার টাকা SIP, ৫ হাজার টাকা জরুরি তহবিল এবং ৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধে রাখা যায়। তবে এগুলি শুধুমাত্র উদাহরণ। কম বয়সে আয় কম থাকলে ১০–১৫ শতাংশ দিয়ে শুরু করেও ধীরে ধীরে SIP বাড়ানো যায়। জরুরি তহবিল তৈরি, উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের ভারসাম্য রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Post Comment