আফগান পড়ুয়াদের বের করে দিতে হবে, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলিকে নির্দেশ পাকিস্তান সরকারের

নয়াদিল্লি: দেশের মেডিক্যাল কলেজ থেকে আফগান ছাত্রছাত্রীদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিল পাকিস্তান সরকার। এতে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের সংঘাত তীব্রতর হবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পাকিস্তানের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরে পাঠরত শত শত আফগান পড়ুয়া। ডেন্টাল কলেজেও পড়াশোনা করছেন অনেকে। কারও কারও কোর্স শেষ হওয়ার মুখে। আচমকা এই নির্দেশে ওই সব ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। (Pakistan-Afghanistan Conflict)

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলিতে পাক সরকারের ওই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। শুধু আফগান পড়ুয়াদের বহিষ্কার করতেই বলা হয়নি, আপাতত নতুন কাউকে ভর্তি না নিতেও বলা হয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, যে সমস্ত আফগান পড়ুয়ার কাছে পাকিস্তানে প্রবেশের বৈধ নথি রয়েছে, বসবাসের নথি রয়েছে, তাঁরা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানাতে পারেন। তবে পাক সরকারের নির্দেশিকা ঘিরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আফগান পড়ুয়াদের মধ্যে। কারণ অন্য কোনও দেশের পড়ুয়াদের নিয়ে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র আফগান পড়ুয়াদেরই বের করে দিতে বলা হয়েছে। (Afghan Students in Pakistan)

আরও পড়ুন: ‘ভিখারি’, ‘ভিখারি’ বলে কটাক্ষ, পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ধাক্কা, কলার ধরে শাসানি, বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

যদিও পাক সরকারের দাবি, বৈধ নথি নেই যাঁদের, তাঁদের চিহ্নিত করতেই এমন পদক্ষেপ। পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের তরফে মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজগুলিতে যে নির্দেশিকা পৌঁছেছে, তাতে পরিষ্কার বলা রয়েছে যে, চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া বা তাদের প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করা যাবে না। যাঁরা ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের দেশে ফিরে যেতে হবে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির দরুণই এমন পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। 

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দর খান ‘Dawn’-কে জানিয়েছেন, বেআইনি ভাবে পাকিস্তানে এসেছেন যাঁরা, তাঁদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে পাক সরকারের। বৈধ পাসপোর্ট এবং ভিসা ছাড়া বেআইনি ভাবে কোনও বিদেশি নাগরিকের পাকিস্তানে থাকতে পারবেন না। তাঁদের চিহ্নিত করে নিজের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।  তবে বৈধ নথিপত্র আছে যাঁদের, তাঁদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন বিজেপি নেতা

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, লাহৌরের কিং এডওয়ার্ড মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ইতিমধ্যেই ওই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে ২২ জন আফগান পড়ুয়া পাঠরত রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের। গত কয়েক মাসে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে শুধু অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ নয়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গত কয়েক মাসে বার বার গুলি বিনিময় হয়েছে, যাতে দুই তরফেই প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাঁড়া নেমে এল পাকিস্তানে পাঠরত আফগান পড়ুয়াদের উপর। 

বহু দশক ধরেই পাকিস্তানে পড়াশোনা করতে যান আফগান পড়ুয়ারা। বহু আফগান নাগরিক পাকিস্তানে আশ্রিতও ছিলেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবানের প্রত্যাবর্তন ঘটলে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। ২০২৩ সালেই বৈধ নথি না থাকা আফদানদের প্রত্যর্পণের কাজে হাত দেয় ইসলামাবাদ।  গতবছর এপ্রিলে শত শত আফগান নাগরিকের বসবাসের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়। জুন মাসে ধরপাকড়ের নির্দেশও দেয় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রক।

Post Comment

You May Have Missed