উৎসবের আগে পেঁয়াজের দামও আগুন, বাফার স্টক ছাড়ল কেন্দ্র, বেঁধে দেওয়া হল মূল্য, কোথায় পাবেন?
নয়াদিল্লি: নিত্য প্রয়োজনের সব জিনিসের দামই আকাশছোঁয়া। সেই আবহেই সরবরাহে ঘাটতি একাধিক পণ্যের। চিনির সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আমদানিতে শুল্ক তুলে নিয়েছে কেন্দ্র। এবার পেঁয়াজের জোগান অব্যাহত রাখতে দেশের ১৯টি শহরে পেঁয়াজ সরবরাহ করতে উদ্যোগী হল তারা। (Onion Supply)
দেশের ১৯টি শহরে পেঁয়াজ সরবরাহ করছে কেন্দ্র। রেলপথে ‘কান্দা এক্সপ্রেসে’র সাহায্য়ে একাধিক রাজ্যে পৌঁছচ্ছে পেঁয়াজ। ন্যায্য মূল্যের দোকানগুলিতে সেই পেঁয়াজ কেজিতে ৩৫ টাকা দরে কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। আবার মোবাইল ভ্যান থেকেও ওই পেঁয়াজ কেনা যাবে লখনউ, বারাণসী, জয়পুরের মতো শহরে। নয়ডা এবং দিল্লি সংলগ্ন শহরগুলিতে দুই উপায়ই রয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ১০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। (Onion Price)
আরও পড়ুন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যু, ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘর থেকে
‘কান্দা এক্সপ্রেসে’ চাপিয়ে যেমন বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজ পৌঁছে দিচ্ছে কেন্দ্র, তেমনই সড়কপথেও ১০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ৩০টি ট্রাক পৌঁছে যাবে দিল্লি, জয়পুর, জম্মু, দেহরাদূণ, শিমলা, অমৃতসর, চণ্ডীগড়, কলকাতা, গুয়াহাটি, লখনউ, বারাণসী, পটনা, ভোজপুর, শরিফ, ভুবনেশ্বর, চেন্নাই, মাদুরাই, ত্রিশূর এবং কোচি। ক্রেতা, খাদ্য, জন বিপণন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা লখনউতে ওই কর্মসূচির সূচনা করেন।
কেন্দ্র জানিয়েছে, ৩৫টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হবে NCCF, NAFED, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারগুলিতে। পাশাপাশি, গাড়িতে করেও পৌঁছে দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত ৬৬৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে e-NAM পোর্টালের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ২২৩ মেট্রিক টন। ৪৪৬ মেট্রিক টন খুচরো মাধ্যমে। বাফার স্টক পৌঁছে দেওয়াতেই বাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই বলে জানিয়েছে তারা।
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করে ভারত। তার পরও এই পরিস্থিতি কেন? এর নেপথ্যে একাধিক কার্যকারণ উঠে আসছে। চিনের পর ভারতই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশ। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বছরে ২.৫-৩ কোটি মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় ভারতে। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক এবং গুজরাতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন পেঁয়াজের। ভারত এত পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন করে যে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা মিটিয়ে, পেঁয়াজ বিদেশেও রফতানি করা হয়। কিন্তু বছরভর পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময় ছাড়া পেঁয়াজ চাষ হয় না ভারতে। মজুত রাখা পেঁয়াজের উপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অকাল বর্ষণ, বিলম্বিত বর্ষার জরুণও জোগান বাধাপ্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি, পরিবহণের সময় পেঁয়াজ নষ্ট হয়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা না থাকাতেও নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ।
আরও পড়ুন: শাংহাই সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিল পাকিস্তান, সমালোচনার মুখে পড়ে শেষে…
পেঁয়াজের আকাল এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্য ফড়েদেরও দায়ী করা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের দাবি, ফড়েদের জন্যই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। ক্রেতা বিষয়ক বিভাগের সচিব নিধি খারে আবার পেঁয়াজের কালোবাজারিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উৎসবের আগে যথেষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তাই এখনই রফতানি বন্ধের কথা ভাবা হচ্ছে না।
মূলত তিনটি চক্রে পেঁয়াজের চাষ হয়-রবি, খারিফ এবং বিলম্বিত খারিফে। দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ৬৫-৭০ শতাংশই রবিশস্য, যা মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে চাষ করা হয়। বাইরের অংশ পুরু হওয়ায় এই পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় মজুত রাখা যায়। জোগানে ঘাটতির জন্য মজুত রাখা হয় তাই। জুন-নভেম্বর সময়কালে তাজা পেঁয়াজের জোগান থাকে না। ফলে মজুতের উপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে দামেও ওঠাপড়া চোখে পড়ে। সঠিক ভাবে মজুত না করায় যদি ওই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুন খারিফ পেঁয়াজ এসে না পৌঁছয় তখনও পর্যন্ত, সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।
অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে খারিফ শস্যের চাষ হয়। দেশের মোট উৎপাদনের ১৫০২০ শতাংশ। তবে সেই পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় মজুত রাখা যায় না। সময়ে বাজারে না পৌঁছলে, বৃষ্টি হলে, তা খারাপ হয়ে যায়। এর ফলেও সঙ্কট দেখা দেয়। রবিশস্যের সময়ই তাই ফসল তুলে রাখে কেন্দ্র। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক সময়ে বাজারে ছাড়া হয় সেগুলি।
এই মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৩৫ থেকে বেড়ে ৬০-৬৫ টাকায়। দাম আরও বাড়তে পারে বলে এখন থেকেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই আবহে কেন্দ্রের জোগানে কি দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে? এককথায় হ্যাঁ বলতে পারছেন না কেউই। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের তরফে কিছুটা জোগান দেওোয়া হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজ মজুত রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই যেখানে, পরিবহণেও যেখানে হাজারো সমস্যা, তাতে বেশিদিন দাম বেঁধে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তাঁরা।
Post Comment